প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয়, নারী, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান 
প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নয়া দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে, অর্থাৎ রাষ্ট্র যদি জনগণ দ্বারা পরিচালিত না হয়, তাহলে কর্মসংস্থান কখনোই হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশ নেয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সাথে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।’

Advertisement

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের যুব বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। যার কারণে শিক্ষিত বেকারত্বের পরিমাণ অনেক বেশি। যদি যুব বেকারত্ব ১০ শতাংশ হয়, তার মধ্যে ৩৪ শতাংশ হচ্ছে শিক্ষিত যুব বেকার। এজন্য শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও তাদের দক্ষতাকে কর্মবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য করা দরকার।’

শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজের অর্ধেক অংশ যদি শ্রমবাজারে অংশ না নেয় তাহলে আমাদের দারিদ্র্য কমবে না। নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব হবে।’ 

পোশাক শিল্পের বিকাশের সাথে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিকত্ববোধ ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। একই সাথে গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণার সাথে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্রেইন সার্কুলেশনের কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হওয়া দরকার। ‘ব্রেইন ড্রেন’ যেমন কাজ করে না, আবার ‘ইনফ্লো’ও কাজ করে না। আমাদের নতুন একটি ধারণার প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় থাকা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সাথে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ থাকতে হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বের অগ্রণী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়াতে হবে।’

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিকাশের সাথে বাংলাদেশের ভাষা ও জ্ঞানভাণ্ডারকে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। বাংলা ভাষার বই ও অন্য তথ্যভাণ্ডারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৃহৎ ভাষা মডেলে যুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বংশধরের কথা তো চিন্তা করতে হবে। আর কত জীবাশ্ম জ্বালাবেন? আস্তে আস্তে তো নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে হবে।’ 

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এজন্য সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ানোর কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: আতিকুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।