শিক্ষা
ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশান। নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশান ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: আতিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষার সাথে শিল্পখাতের কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন শিল্পখাতে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তবমুখী করা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলাও প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট প্রদান বা অর্জনের কেন্দ্র নয়, পাশাপাশি জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও বাস্তবমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের উপযোগী করে তোলার জায়গা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন দক্ষ ও যোগ্য গ্র্যাজুয়েট। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতেই এ আয়োজন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। যার কারণে শিক্ষিত বেকারত্বের পরিমাণ অনেক বেশি। যুব বেকারত্ব ১০ শতাংশ হলে, তার মধ্যে ৩৪ শতাংশ হচ্ছে শিক্ষিত যুব বেকার। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রথম হলো দক্ষতা বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট, দ্বিতীয় হচ্ছে নাগরিকত্ববোধ এবং তৃতীয়, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেটি হলো উদ্ভাবন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচয়ই হবে মূলত উদ্ভাবনের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষাখাতে ২ শতাংশ জিডিপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রতি শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেয়া হবে। বর্তমান আন্তর্জাতিক দক্ষতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বহু ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও নতুন করে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্সের মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে স্টেম অ্যাডুকেশনের অবস্থা দুর্বল। এ ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের সাথে চুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশন দেখতে চাচ্ছি। শুধু দেশের মধ্যেই নয়, অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও এ ধরনের সহযোগিতা চাই।’

অনুষ্ঠানে আইফ্যাড মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেড, প্রাণ গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, বেটোপিয়া গ্রুপ, টেলিটক, ইনোভিক্স আইটি সলিউশন্স লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, টিপি-লিংক বাংলাদেশ, মডার্ন প্লাইউড, বিএটি বাংলাদেশ, জিল্লুর অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, গ্রামীণফোন, বিকাশ ও গোল্ডেন জুট প্রোডাক্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরি, গবেষণা সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে মতামত দেন।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে কর্মজীবনের প্রস্তুতি, উদ্যোক্তা হওয়া, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, চাকরির বাজার এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে পরামর্শ দেন।