
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যৌন হয়রানির অভিযোগের পর তিন শিক্ষককে এক ধাপ করে পদাবনতি দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: রশীদুল ইসলামকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: শামীম হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে অধ্যাপক ড. মো: রশীদুল ইসলাম ও এক ছাত্রীর মেসেঞ্জারে কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছাত্রী নিজের পরিচয় গোপন রেখে স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করেন। পরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর ওই স্ট্যাটাস ও স্ক্রিনশট বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে, গত বছরের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতায় নম্বর টেম্পারিং ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো: শওকাত আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পান এবং দোষী কেউ যাতে শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য প্রথমে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়।’
তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না বা তাদের বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড দেয়া হবে না — এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন এ বিষয়ে পর্যাপ্তভাবে প্রযোজ্য না হওয়ায় ২০১৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।’
ভিসি আরো বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের মতামতের ভিত্তিতে বুধবারের সিন্ডিকেট সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গুরুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পদ এক ধাপ করে অবনমিত করা হয়েছে।’
এ ছাড়া শাস্তির অংশ হিসেবে তারা কোনো নারী শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পাশাপাশি এককভাবে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভিসি।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








