
বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও মূল্যায়নের প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পরীক্ষা পরিচালনা থেকে মূল্যায়ন — পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে যুক্তরাজ্যের এ কিউ এ গ্লোবালের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতি, স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে এ কিউ এ গ্লোবালের এটিই প্রথম চুক্তি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের দফতরের কনফারেন্স রুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং এ কিউ এ গ্লোবালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা, গতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রচলিত ব্যবস্থায় যেসব ধাপে মানবিক ভুলের সুযোগ রয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেসব ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এত বড় পরিসরে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি আরো দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি যেখানে মানবিক ভুলের সুযোগ রয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটিও কমিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত মূল্যায়ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগাতে হবে। এ কিউ এ গ্লোবালের সাথে সহযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এটি শুধু একটি চুক্তি নয়; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক এবং আউটকাম বেজড এডুকেশন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শুরুতে ছোট পরিসরে বিভিন্ন পার্টনার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে কাজটি করা গেলে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এর সুফল শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটি একটি মডেল হতে পারে।’
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘শুরুতেই বড় পরিসরে না গিয়ে একটি কোর্স বা নির্দিষ্ট কার্যক্রম পাইলট আকারে করা যায় কি না, সেটি দেখা হচ্ছে। এ কিউ এ গ্লোবালের সহযোগিতায় ছোট পরিসরের উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ঝুঁকি কম থাকবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।’
এ কিউ এ গ্লোবালের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের পরিচালক শন ক্রোলি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। এত বড় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তারা। একই সাথে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ সহযোগিতা শুধু পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগও এখানে রয়েছে। অক্সফোর্ড এ কিউ এ-এর অ্যাক্রেডিটেশন শিক্ষার্থীদের সনদে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।’
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দফতরের পরিচালক মো: আমিনুল আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দফতরের পরিচালক সালমা পারভীন এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন।
এ কিউ এ গ্লোবালের পক্ষে বিজনেস ডেভেলপমেন্টের লিড ইন্টারন্যাশনাল সৈয়দ শাহ এবং বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহিন রেজাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








