আম্মারকে ১ বছর আগেই শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়
রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে, রাবি শিবিরের ইস্যু করা তিনটি পৃথক চিঠিতে প্রথমে তার পদ স্থগিত ও পরে পদ বাতিলের তথ্য পাওয়া যায়।

Advertisement

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাবি শিবিরের সাবেক নেতা আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানা যায়। 

আম্মারের উদ্দেশ করে ফেসবুক পোস্টে রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী লিখেছেন, ‘জামায়াত নেতা অর্থায়ন করলে শিবিরের মাধ্যমেই করবে এটাই স্বাভাবিক। বহিষ্কৃত কোনো জনশক্তির সাথে শিবির-জামায়াত কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখে না। এটাই জামায়াত-শিবিরের সাংগঠনিক ঐতিহ্য।’ 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন কথা হলো, জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামান কি জানে তুমি শিবির থেকে বহিষ্কৃত নাকি রানিং শিবির পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করো সেইটা ক্লিয়ার করো।’

এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে, এ প্রতিবেদকের হাতে আম্মারের বহিষ্কারসংক্রান্ত শিবিরের তিনটি চিঠি এসেছে।

প্রথম চিঠিটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখের। তৎকালীন রাবি শিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী সালাউদ্দীন আম্মার কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। যা দেশের প্রথম সারির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তাছাড়াও বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্লাটফর্ম থেকে তার নৈতিক পদস্থলনজনিত কয়েকটি অভিযোগ আসে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘উল্লেখিত অভিযোগসমূহ গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সালাউদ্দীন আম্মারের নৈতিক পদস্থলনের অভিযোগ আমলে নেয়া হয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সালাউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী সালাহউদ্দিন আম্মার কর্তৃক দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করা এবং বারবার সংশোধনী দেয়া সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়াতে মুহতারাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ভাই তার সাথী পদ বাতিল করেছেন।’

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সাথে অবাদ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সম্পদের তছরুপ, সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রাবি শাখার সাথী সালাউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে।’

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একই বছরের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে তার সাথী পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে তার কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার নিয়মিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় তার অনলাইন এবং অফলাইন কর্মকাণ্ডে পজিটিভ এবং নেগেটিভ কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শুধুমাত্র রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা তার সাথে দাফতরিক সম্পর্ক রাখবেন। এছাড়া, অন্য সব স্তরের জনশক্তির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ করা হচ্ছে।’

চিঠির সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘চিঠিটি সত্য এবং ২০২৫ সালেই তাকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’