কওমি মাদরাসা
কওমি মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি প্রতিরোধে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার একটি দৃশ্য। নয়া দিগন্ত

দেশের কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ ও সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুরস্থ আঞ্চলিক শিক্ষাবোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’র উদ্যোগে দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদীয়া মাদরাসা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান রোধ, শরয়ী সীমার মধ্যে সহমর্মিতাপূর্ণ শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মোন্নয়নে করণীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেশ করেন জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শাইখুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মাওলানা মুহাম্মাদ লুতফেরাব্বী আযহারী। 

আলোচকগণ তাদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থার আসল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরিত্র গঠন করা। কোনো অবস্থাতেই প্রতিশোধ বা রাগের বশে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর শারীরিক অথবা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। তাদের সুস্থ বিকাশ ও মানসম্মত শিক্ষা-পরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দায়িত্ব। 

মাওলানা মাহফুজুল হক শিক্ষকদের সুন্নাহভিত্তিক তারবিয়াত ও কোমল আচরণের মাধ্যমে শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

অনুষ্ঠানে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুরের আওতাভুক্ত বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।