
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন গৌরবের মাইলফলক। স্বীকৃতি অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আরো কঠিন। অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘কিছু মানুষের সাহসী উদ্যোগের ফলে সিলেটে শুধুমাত্র নারীদের জন্য এই মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নারীদের বিশ্বমানের চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র আটটি প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করেছে। এর মধ্যে সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গৌরবের। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টার ফল নয়। গভর্নিং বডি, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিশ্রম এবং ত্যাগের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা এর অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছেন, তাদের সবার অবদান এই অর্জনের সাথে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাতাদের হলেও এটি এখন সিলেটবাসীর গৌরবের প্রতিষ্ঠান।’
তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের পর দায়িত্ব আরো বেড়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি হবে এবং তারা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন—এটাই প্রত্যাশা।’
সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: শাহানা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা: হোসাইন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: জিয়াউর রহমান চৌধুরী, হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: ফজলুর রহিম কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এম এ মতিন ও মো: ফখরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক ডা: ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং উদ্যোক্তা পরিচালক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: তহুর আব্দুল্লাহ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা জাদুল আহমদ।
এদিকে এর আগে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর বর্ণাঢ্য র্যালি, কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
পরে আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে আলোচনা সভা এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: শফিকুর রহমান এমপি।








