গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)
গোবিপ্রবিতে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বরণে ছাত্র অধিকার পরিষদের নবীনবরণ  নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: কে এম বাবর। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোবিপ্রবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো: সাইদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে বিকশিত করার জায়গা। এখানে অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কে কোন পথে যেতে চান, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা খেলাধুলা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, সরকারি চাকরি করা, ক্যারিয়ার গড়ার মতো অসংখ্য পথে নিজেকে তৈরি করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরা যেন পরিবারের দুর্ভোগের কারণ না হন।’

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক আরো বলেন, ‘আমার ধারণা ছিল গোপালগঞ্জ তথা এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক উন্নত হবে। অথচ এখানে নানাবিধ সঙ্কট রয়েছে। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: কে এম বাবর নবীনদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো-মন্দের সবকিছুর সাথে জড়িয়ে গেছি। এখানে শিক্ষকসঙ্কট, ক্লাসরুমসঙ্কট, কোনো অডিটোরিয়াম নেই। এতসব ‘নেই’ নিয়ে কোনো রকমে চলছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় হোক। এখানে যাবতীয় সঙ্কট দূর করে আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে ও গবেষণার দুয়ার উন্মুক্ত করতে চাই। এই ক্যাম্পাস যেন শিক্ষক-ছাত্রে পরিপূর্ণ থাকে, বর্তমান সরকার সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। শিক্ষার্থীদের শুধু সচেতন থাকতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত না হয়, কোনো গুপ্ত সংগঠন বা ফ্যাসিস্ট যেন না থাকে। কোনো অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘৫৫ একরের এই সবুজ ক্যাম্পাসে নবীনদের স্বাগতম। তবে আমরা ৫৫ একর থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা চেষ্টা করছি আগামীতে ২০০ একরের ক্যাম্পাস নির্মাণের। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই তা কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে ৩২টি স্থায়ী পদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি আমরা পেয়েছি। সামনের দিনে আরো নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে দ্রুতই শিক্ষকসঙ্কট দূর করা সম্ভব হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। একই সাথে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অসমাপ্ত কাজগুলোও সমাপ্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘র‌্যাগিংমুক্ত, নিরাপদ ও আনন্দময় ক্যাম্পাস গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। তোমাদের মেধা ও সৃজনশীলতাই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং পাঁচ শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।