
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেটে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খানকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য করার দাবিতে একটি যৌথ বিবৃতি প্রচারিত হয়েছে। তবে সেই বিবৃতিতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীনের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এসপি শামীমা পারভীন। তিনি জানান, প্রচারিত বিবৃতিতে তার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না এবং এর সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
নিজের অবস্থান সম্পর্কে শামীমা পারভীন বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তবে বর্তমানে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাবি আমার কর্মক্ষেত্রের আওতাভুক্ত নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বা সিন্ডিকেট নিয়ে কাজ করাও আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমার কাজ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা।’
তিনি আরো জানান, বিবৃতিতে তার নাম ‘শামীমা শিল্পী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার অফিসিয়াল নাম (শামীমা পারভীন) নয়। পাশাপাশি এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরটিও অসঙ্গতিপূর্ণ। বিবৃতিটি ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি ইন্দোনেশিয়া সফরে ছিলেন এবং দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন।
জালিয়াতির এই ঘটনায় ইতোমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিবৃতিতে অধ্যাপক নাহরীনের অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে অধ্যাপক নাহরীন আই খান বিবৃতিটির সাথে তার নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন।
তাকে সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবিতে স্বাক্ষর সংগ্রহ ও বিবৃতি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, তাদের কারো সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ও যোগাযোগ নেই এবং এবিষয়ে আমি অবগত না। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে শুধু পারভেজ মল্লিক ভাইকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি এবং মাঝে মাঝে তার সাথে যোগাযোগ হয়। তবে এই যে কাজটি করা হয়েছে, এর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
বিবৃতিতে শামীমা পারভীনকে ‘জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়। এ বিষয়ে তার ব্যাচমেট ও জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া আরমান আলী জানান, শামীমা জাবির পরিসংখ্যান বিভাগের ২৫তম ব্যাচ ও প্রীতিলতা হলের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বিবৃতিতে ৩২ জন সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতার নাম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু এসপি শামীমা পারভীনই নন, আরো অনেকের নাম ও স্বাক্ষর তাদের সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।








