ইবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নয়া দিগন্ত

পর্যাপ্ত নজরদারি ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অশালীন মেলামেশার অভিযোগ উঠেছে। সূর্যাস্তের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন নির্জন ও অন্ধকার স্থানে শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশায় জড়াতে দেখা যায় বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে আপত্তিকর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বটতলা, ঝালচত্বর, ডায়না চত্বর, ফুটবল মাঠ, স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার, মেডিকেলের খেলার আশপাশ, মীর মুগ্ধ সরোবর, ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনসংলগ্ন নির্জন এলাকা, ছাত্রী হলগুলোর আশপাশ ও টিএসসিসিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই যুগলদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। সন্ধ্যার পর এসব দৃশ্য বেশি চোখে পড়ে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে এসব এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে শিথিলতা ও পর্যাপ্ত আলোর অভাবে কিছু যুগল সেখানে অবস্থানের সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এসব স্থানে স্থানীয় বহিরাগত তরুণ-তরুণীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থী ও যুগলদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি অনুষদ ভবন, ঝালচত্বর, মীর মোশাররফ হোসেন ভবন ও টিএসসিসি সংলগ্ন কিছু এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান অন্ধকারে থাকে। প্রধান ফটকের পাশের যাত্রীছাউনি ও বন্ধ থাকা বিভিন্ন দোকানের ছাউনিতেও ছেলে-মেয়েদের একসাথে ধূমপান ও মেলামেশা করতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আমির ফয়সাল বলেন, ‘বর্তমানে কিছু যুগলের প্রকাশ্যে অশালীন মেলামেশায় সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন। কয়েক বছর আগেও যুগলদের এমন অবাধ ঘোরাঘুরি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। বর্তমানে অনেক যুগলকে রাত ৯টার পরও ক্যাম্পাসে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।’

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা ফারজানা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এমন কোনো আচরণ কাম্য নয়, যাতে অন্য শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি গাণিতিক হারে বাড়ছে। প্রশাসনের উচিত এসব স্থানে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল বাড়ানো।’

এদিকে কিছু শিক্ষার্থীর দাবি, ক্যাম্পাসে সান্ধ্য আইন থাকলেও তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা ও তদারকিতে শিথিলতার কারণেও পরিস্থিতি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। 

তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়া একাধিক যুগলকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অশালীন কর্মকাণ্ডসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসের একটি বড় অংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। বাকি অংশগুলো আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা হবে। আমি নিজে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করি। সম্প্রতি দুটি ঘটনায় জড়িতদের আটক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের আপত্তিকর কর্মকাণ্ড ও মাদকমুক্ত রাখতে প্রক্টরিয়াল বডি সবসময় সতর্ক রয়েছে।’

সান্ধ্য আইন প্রসঙ্গে প্রক্টর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো নির্দিষ্ট সান্ধ্য আইন নেই। তবে হলগুলোর নিজস্ব কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণত মাগরিবের আজানের আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলে ফেরার নিয়ম। তবে মেসে থাকা ছাত্রীদের কেউ কেউ রাত ৮টা পর্যন্ত বাইরে থাকতে চান। আমরা টহল দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে তাদের মেসে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।’