বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। নয়া দিগন্ত

‘বাংলাদেশের সরকারকে ষড়যন্ত্র করে উৎখাত করা হয়েছে, ঠিক সেইভাবে ভারতের সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের করা হচ্ছে’- ভারতের এক মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশ যদি অন্যায় ও অবৈধভাবে চলে, তাহলে গণআন্দোলন, গণজাগরণ এবং জনগণের উত্থান তৈরি হয়। তাতে যারা অপরাধ করেছে শাসক, সেই অপরাধীদেরকে পালিয়ে যেতে হয়। এটাই সত্য কথা।

Advertisement

রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা কোনো বৈধ শাসক ছিলেন না। জোর করে বারবার তিনি ভোটকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতায় বসে থেকেছেন। তাই জনগণের উত্তাল আন্দোলন, ছাত্র-জনতার এক বিপুল অভ্যুত্থানে তাকে পালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই হচ্ছে অপরাধী শাসকদের পরিণতি।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- জেটেব দেশজুড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নৈরাজ্যের সৃষ্টি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে এ সমালোচনা করেন তিনি। বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা বলার কথা নয়। যখন বাংলাদেশকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, তখন তো আমাদের কথা বলার আছে। একটি গণআন্দোলন কখন হয়? কেন একটি শাসক পালায়? কারণ ওই শাসক কোনো নির্বাচন করেনি। আমি নির্বাচন, মধ্যরাতের নির্বাচন করে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এক চিরস্থায়ী গোরস্থানে পরিণত করেছিলেন শেখ হাসিনা। জনগণ ভোটাধিকার হারিয়েছিল, জনগণ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যেত না, কারণ প্রত্যেকটি জায়গায় শেখ হাসিনা তার নিজের লোক দিয়ে আদালত, প্রশাসন ইত্যাদি জায়গায় ভরপুর করেছিলেন এবং তার লুটপাট, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, সোনালী ব্যাংকের টাকা, বেসিক ব্যাংকের টাকা- তার লোকেরা, তার ঘনিষ্ঠ লোকেরা যাতে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করতে পারে, এই ধরনের দুঃশাসন কায়েম করেছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কেউ অন্যায় করে পার পাবে না। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, খবরের কাগজ খুললে দেখবেন, ‘নাই, নাই, শেষ হয়ে গেছে, শেষ হয়ে গেছে, এই হচ্ছে, সেই হচ্ছে’- নানা কথা। যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছে, তারা তো এই কথাগুলোই বলে বেড়াচ্ছেন। তারা নানা কর্মসূচি করবেন, এর আগে করেছেন, লং মার্চ করেছেন, আরো লং মার্চ তারা করবেন; জুলাই সড়ক নিয়ে, নানা কিছু নিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো নানা কথাই বলছেন। সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক যে কর্মসূচি, অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ইত্যাদি নিয়েও তারা দিনরাত সমালোচনা করছেন, অথচ কিছু করতে পারেন না। গণতন্ত্রের এই পরিবেশে সমালোচনা করার অধিকার আছে, কিন্তু সত্য কথা বলুন ভাই। ন্যায়সঙ্গত কথাগুলোকে মিথ্যার বিভ্রান্তিতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে, ওটা জনগণ কখনোই বিশ্বাস করবে না।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, এই সরকার জনবান্ধব সরকার, এই সরকার জনগণের স্বার্থকে সবচাইতে বড় করে দেখে বলে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন রিজভী বলেন, অতীতের সরকার যেমন বলেছিল, বিনামূল্যে সার দেবে; যেমন বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। এই মিথ্যা কথা বলে তারা ভয়ঙ্কর পরিণতি তৈরি করেছিল। তারা বিনামূল্যে সার দেয়নি, ঘরে ঘরে চাকরি দেয়নি, ১০ টাকা কেজি চাল দেয়নি। মিথ্যা কথা বললে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়। তাই ফ্যাসিস্টদেরকে পালিয়ে যেতে হয়েছে, আর যারা জনগণকে সত্য কথা বলে, সত্য অঙ্গীকার করে, তাদেরকে পালাতে হয় না। কারণ জনগণের সমর্থন নিয়েই টিকে থাকতে হয়।