বিএনপি, রিজভী, ষড়যন্ত্র
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। নয়া দিগন্ত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র, নানা প্রক্রিয়া চলছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল লং মার্চ করছে। কিসের জন্য লংমার্চ? বিদ্যুতের জন্যই তো? বলেন, কোথায় বিদ্যুৎ বা জ্বালানি পাবো, আপনারা না বিরোধী দল- এমন প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুপুরে নবাবগঞ্জের দোহারে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন রিজভী।

বিরোধী দলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে, আপনারা কথা, বা  লংমার্চ করতেই পারেন। আপনারাই বলেন বিদ্যুৎ কোথা থেকে পাবো? জ্বালানি কোথা থেকে পাবো? বাক স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে আপনারা উল্টাপাল্টা কথাও বলছেন, মিথ্যা কথাও বলছেন, তারপরেও তো আপনাদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। আপনাদের কোনো ধরনের সরকারি নিপীড়নের শিকার হতে হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট। তারপরও সরকার উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমে না পেলে পূর্ব দিকে খুঁজছে জ্বালানি। এই খাতে বাজেটের চেয়ে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে তারেক রহমানের সরকার।’
 
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছর রাস্তায় আন্দোলন করায় অনেকেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। অনেকে গুম হয়ে গেছে। অনেকের রক্তাক্ত লাশ খালে বিলের ধারে, নদীর ধারে আমরা সেই লাশ খুঁজে পেয়েছি। এমন পরিণতি ছিল ১৭ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। কোনো আশা ছিল না, কোনো ভরসা ছিল না। 

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি অঙ্গনে হতাশা এবং নিরাশা তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার আমলে। শিক্ষাঙ্গনকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

পার্সেন্টেজ বেশি করে দেখিয়ে প্রকৃত যে লেখাপড়ার যে পরিবেশ এবং তাকে যে চর্চা এবং অনুশীলনের যে আকাঙ্ক্ষা এই আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করেছে। এবং যার কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের ছেলেরা যেভাবে প্রতিযোগিতা করে বাইরে, সেই প্রতিযোগিতার মনোবৃত্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল। এইভাবে প্রত্যেকটি সেক্টরে আপনার হতাশা এবং নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আবার সেই আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। আবার প্রতিযোগিতার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। আবার আপনারা দেখছেন সত্যিকার অর্থে যতটুকু মেধা, যতটুকু অর্জিত শিক্ষা দেয়া সম্ভব- সেটারই প্রতিফলন হচ্ছে। 

রিজভী বলেন, ধর্মীয় উৎসবে কোনো ধরনের যাতে ভয়ভীতির সৃষ্টি না হয় এবং নিরাপত্তার জন্য বিএনপি দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে। 

হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাথে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে যুবদল, ছাত্রদল, ও স্বেচ্ছাসেবক এবং বিএনপির অন্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।