নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি সম্মেলনের একটি মুহূর্ত। নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেছেন, বৈশ্বিক যুগে মফস্বল ও নগর সাংবাদিক বলে কোনো বিভাজন নেই। বর্তমানে পত্রিকার সব সাংবাদিক ও প্রতিনিধিকে সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। পরিবর্তিত সময়ে সমাজকে নতুনভাবে সাজাতে নয়া দিগন্তের প্রতিনিধিদের আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

Advertisement

নয়া দিগন্তের ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্যুরো ও অফিস প্রধান এবং জেলা প্রতিনিধিদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে নয়া দিগন্তের বোর্ডরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ব্যুরো ও অফিস প্রধান এবং জেলা প্রতিনিধিরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অংশ নেন।

সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর আরো বলেন, অত্যন্ত কষ্টদায়ক ১৭টি বছর পার করে আমরা বর্তমান সময়ে পৌঁছেছি। সময়ের সাথে সংবাদমাধ্যমকেও তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তাই সময়ের দাবি ও সমাজের প্রয়োজনকে বিবেচনায় রেখে সংবাদ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে কৃষিতে ক্রমবর্ধমান দূষণসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে শক্তিশালী প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 

তিনি বলেন, সত্য উদঘাটন এবং তা সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের প্রধান কাজ। তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনগণকে সমৃদ্ধ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্তের এক্সিকিউটিভ এডিটর মাসুমুর রহমান খলিলী। তিনি বলেন, জেলা সংবাদদাতারাই সারা দেশে পত্রিকার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কোনোভাবেই ক্ষমতার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠনগুলোর সাথেও নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে। নয়া দিগন্তের সাময়িক সমস্যাগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি আরো শক্তিশালীভাবে সামনে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নয়া দিগন্তকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমানে সংবাদ পরিবেশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিকদের কর্মতৎপরতা বাড়াতে হবে।

নয়া দিগন্তের ন্যাশনাল ডেস্কের ইনচার্জ মীম ওয়ালীউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্তের সিটি এডিটর ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, অনলাইন শিফট ইনচার্জ সাবরিনা সোবহান, জিএম মার্কেটিং আনোয়ারুল ইসলাম জয়, জিএম সার্কুলেশন মির্জা হেলাল ও মার্কেটিং ম্যানেজার আমির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এইচ আর অ্যান্ড অ্যাডমিন ম্যানেজার মো: আজহারুল ইসলাম।

নয়া দিগন্তের সিটি এডিটর আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিজ নিজ জেলায় প্রতিনিধিরাই নয়া দিগন্তের অভিভাবক। এই দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তাদের নিজ নিজ এলাকায় আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

তিনি বলেন, সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের খবর জাতীয় অঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও মানুষের কথা তাদের মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। 

আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা আগের তুলনায় উন্মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ খবর পাঠকের সামনে তুলে ধরতে হবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত সময়ে সাংবাদিকতার ধরনও বদলাচ্ছে। প্রিন্টের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংবাদ পৌঁছে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। তবে মাধ্যম পরিবর্তিত হলেও সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য— সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা— অপরিবর্তিত রাখতে হবে।