
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শনিবার নতুন চালু হওয়া সেতু দিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে। নির্মাণ শেষ হওয়ার ১২ বছর পর সেতুটি চালু হলো।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের বরাতে আল জাজিরা শনিবার (২৪ অক্টোবর) জানায়, কিমের এই সফরের এক দিন পরই ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বার্ষিকী। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে কিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
দুই দেশের মধ্যে ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটির দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার। চার লেনের সেতুটি ২০১৪ সালেই নির্মাণ শেষ হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার অংশে সংযোগ সড়ক ও শুল্কসুবিধা তৈরি না হওয়ায় এটি চালু করতে দেরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুটি চালু হওয়া চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর পথও সহজ হবে। সেতুটি দিয়ে দিনরাত দুই দিকেই যান চলাচল করতে পারবে। কনটেইনারবাহী যান ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাকও চলাচলের সুযোগ পাবে।
চীনের সরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লিয়াওনিং একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লু ছাও রয়টার্সকে বলেন, সেতুটি চালু হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য পরিবহনের বড় একটি বাধা দূর হয়েছে। তাঁর মতে, পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতা কমায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়তে পারে।
চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটির কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস বেইজিং। তবে দুই দেশের সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না।
কোরীয় যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়েছিল চীন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তাকারী। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর মস্কোর সাথে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বেইজিংয়ের ওপর পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।
কিমের এই সফর তাঁর ক্রমবর্ধমান সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতিরও অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধের’ ধারণাকে সামনে রেখে তিনি চীন ও রাশিয়ার সাথে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চীন সফর করেছিলেন কিম। সে সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাথে বৈঠক করেন তিনি।
গত জুনে সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সে সময় তিনি বাণিজ্য, কৃষি, নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিমও চীনের সাথে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








