দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা
দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা। সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়া আবারো কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। একইসাথে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর দায় সিউলের ওপর চাপানোর পিয়ংইয়ংয়ের প্রচেষ্টাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।

Advertisement

গত মাসে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। ওই বিস্ফোরণের পেছনে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

১৯৫৩ সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ডিএমজেড একটি ভারী মাইনবেষ্টিত বাফার অঞ্চল হিসেবে দুই কোরিয়াকে পৃথক করে রেখেছে।

সিউল ও জাতিসঙ্ঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটে।

এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সিউলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়া জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে তাদের সীমান্তে ‘গুরুতর পরিস্থিতি বিরাজ করছে’। 

একইসাথে সীমান্ত এলাকায় আরো কিছু ‘কৌশলগত আঘাত হানার অস্ত্র’ মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় দেশটি।

তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, গত ১ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ৯৯৮ বার উসকানিমূলক মাইকিং করেছে ও ৯১ বার সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার এসব অভিযোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অভিযোগ, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় ভিত্তিহীনভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জিন ইয়ং-সুং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া গতকাল আমাদের বৈধ সামরিক কার্যক্রমকে ‘উসকানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা অগ্রহণযোগ্য।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বৈধ পদক্ষেপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তার জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন জিন।

আলাদাভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তে তাদের মাইকিং ও সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ ছিল বৈধ আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ ঠেকানো ও সীমারেখা অতিক্রম করা সেনাদের ফিরিয়ে দেয়াই ছিল এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

সূত্র : বাসস