
সেপ্টেম্বর মাসে চীনের রফতানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছর দেশটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জনের পথে রয়েছে। এতে চীনের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাণিজ্যে ভারসাম্য ফেরানোর দাবি আরো জোরালো হতে পারে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের সরকারি শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দেশটির রফতানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্লুমবার্গের জরিপে বিশ্লেষকেরা রফতানি ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে রফতানি বৃদ্ধির হার সেই পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
একই সময়ে চীনের আমদানিও বেড়েছে ৩১ শতাংশ। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে। গত ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গত বছর রেকর্ড করা এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে দেশটি।
চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। গত আগস্টে দেশটির খুচরা বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বার্ষিক ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রফতানির ওপর নির্ভর করছে বেইজিং।
তবে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি বড় বাজারগুলোতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।
গত বছর চীনা পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়।
গত বছরের তুলনামূলক নিম্ন ভিত্তির কারণে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
গত বছর বেইজিং ও ওয়াশিংটন পরস্পরের পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের রফতানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে ইইউর ২৭টি সদস্যদেশ থেকে চীনের আমদানি ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আরো বেড়েছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা চীনের সাথে ইইউর দৈনিক ১০০ কোটি ইউরোর বেশি বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘অস্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
একইসাথে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারও করেছেন তারা।
গত সপ্তাহে চীনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ওয়াং ওয়েনতাও ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান মারোস শেফচোভিচের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় ইউরোপে চীনের হাইব্রিড গাড়ি রফতানি সীমিত করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিপক্ষীয় মোট বাণিজ্যের তুলনায় এই গাড়ির অংশ খুবই সামান্য।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ নগুয়েন হোয়াং নাম বলেন, ‘ব্রাসেলস আরো কৌশলগত খাতে বিধিনিষেধ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে আমাদের ধারণা, এ ধরনের পদক্ষেপ চীনের অর্থনীতিতে সামান্য প্রভাব ফেলবে।’
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








