ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার মেয়েকে সাথে নিয়ে এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকি করেছেন, যেটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

Advertisement

এর আগে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছিলেন, এআই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘কম উচ্চতায় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম’। এর ফলে এই হামলা ‘এড়ানোর কোনো উপায় নেই’ বলেও দাবি করেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে পূর্ব উপকূলীয় শহর ওয়ানসানের কাছের একটি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দেয়। 

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

উৎক্ষেপণ তদারকি করার পর কিম বলেন, ‘আজকের এই উৎক্ষেপণ মহড়ার মাধ্যমে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের পেশাগত সক্ষমতা এবং পাল্টা হামলার প্রস্তুতি পুরোপুরি প্রদর্শন করেছে।’

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সির (কেসিএনএ) প্রতিবেদনে কিমের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

কিম বলেন, ‘আমাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুকে বারবার এবং ক্রমাগত উপলব্ধি করাতে আমাদের দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কমলা রংয়ের আগুনের ঝলক ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উঠে যাচ্ছে।

অন্য একটি ছবিতে কিমকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। তার দুই পাশে ছিলেন মেয়ে জু আয়ে এবং স্ত্রী রি সোল জু। ছবিতে রি সোল জুকে হাততালি দিতে দেখা যায়।

জু আয়েকে প্রথমবার ২০২২ সালে জনসমক্ষে আনা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে তার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে তিনিই কিম জং উনের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি।

কেসিএনএ জানিয়েছে, ‘হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ পরিচালনাকারী সেনাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানোর কয়েক দিন পর এই উৎক্ষেপণ হলো। 

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে তাদের তিন সেনা আহত হয়েছেন এবং এর জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী।

তবে পিয়ংইয়ং গত মাসের ওই বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার করেছে। শুক্রবার উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক নেতৃত্ব দুই দেশের মধ্যে আবারো সংলাপ শুরুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র : বাসস