যুক্তরাষ্ট্র-চীন,  যুদ্ধ, এআই, ভুল, গোয়েন্দা প্রতিবেদন,
কাল্পনিক ছবি এআই দিয়ে বানানো। সংগৃহীত

এআইকে সাধারণত মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান যন্ত্র হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ঘটে যাওয়া একটি সামরিক ঘটনা এআই ব্যবহারের আরেকটি বড় ঝুঁকি সামনে এনেছে।

Advertisement

সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি জানায়, এআই চ্যাটবটের সহায়তায় তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজ আটকানোর প্রায় কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে ভুলভাবে বলা হয়েছিল, জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সরঞ্জাম রয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ অভিযান কমান্ডের অধীনে কাজ করা এক বিশ্লেষক মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাওয়া একটি চীনা জাহাজের গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনার সময় এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন। চ্যাটবটটি জাহাজে থাকা পণ্য ভুলভাবে শনাক্ত করে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সরঞ্জাম রয়েছে বলে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটি আটকানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়। মার্কিন সামরিক বিমান আকাশে ওঠে। সশস্ত্র সদস্যরা জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে কর্মকর্তারা মূল তথ্যগুলো আবার পরীক্ষা করে ভুলটি ধরতে পারেন। শেষ পর্যন্ত অভিযানটি বাতিল করা হয়।

একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, প্রতিবেদনটি ছিল 'সম্পূর্ণ মিথ্যা'। এটি 'প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিল' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত কোনো সামরিক সংঘাত হয়নি। তবে চীনা একটি জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি হতে পারত।

 এআইয়ের 'হ্যালুসিনেশন' কী

ঘটনাটি এআইয়ের 'হ্যালুসিনেশন' নামে পরিচিত একটি সমস্যার কথাও সামনে এনেছে । এআই চ্যাটবটের পেছনে থাকা বৃহৎ ভাষা মডেল প্রশিক্ষণের সময় পাওয়া তথ্যের বিভিন্ন ধরন বা প্যাটার্ন মিলিয়ে উত্তর তৈরি করে। ফলে উত্তরটি সাবলীল ও বিশ্বাসযোগ্য শোনালেও তা সবসময় সঠিক বা তথ্যপ্রমাণভিত্তিক নাও হতে পারে।

এআই কোনো তথ্য ভুলভাবে বুঝতে পারে, মনগড়া তথ্য তৈরি করতে পারে কিংবা প্রমাণহীন কোনো সিদ্ধান্তকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের মতো করে তুলে ধরতে পারে।

সামরিক গোয়েন্দা কাজে অসম্পূর্ণ তথ্য যাচাই করা, বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে দেখা এবং পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যাগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি। বিপুল পরিমাণ তথ্য সামলাতে এআইকে কাজে লাগতে পারে। কিন্তু এআইয়ের দেয়া তথ্য যাচাই না করে গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, মানব বিশ্লেষককে সহায়তা করা আর মানুষের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া এক বিষয় নয়। এআই তথ্য সাজাতে পারে। কিন্তু সামরিক শক্তি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না বা হওয়া উচিত নয়।