
চীন ৭১টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভের নেতৃত্বে বিশ্ব মানবাধিকার ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি জিয়া গুই দে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে ৭১টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্ব মানবাধিকার ব্যবস্থায় একটি ন্যায়সংগত, যৌক্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
তার মতে, এই ব্যবস্থা গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হওয়া উচিত।
জিয়া গুই দে বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার গভীর সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে চীন চারটি প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রথমত, মানবাধিকারকে জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। প্রতিটি দেশের জনগণকে নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও উন্নত করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের প্রকৃত চাহিদা পূরণকে মানবাধিকার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সার্বভৌম সমতার নীতি মেনে চলতে হবে। এর মাধ্যমে সব দেশের মানবাধিকার-সংক্রান্ত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর সুফল ভোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় ন্যায়, নিরপেক্ষতা, বৈষম্যহীনতা ও রাজনৈতিকীকরণবিরোধী নীতির পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তৃতীয়ত, ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং মানবাধিকারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও হাতিয়ারে পরিণত করার বিরোধিতা করতে হবে। সব ধরনের মানবাধিকারের প্রতি সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে মানবাধিকার ব্যবস্থায় ধারাবাহিক সংস্কার এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে হবে।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক আইনের কর্তৃত্ব এবং জাতিসঙ্ঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতিগুলো রক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের সমান ও অভিন্ন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকারের অজুহাতে দ্বৈত মানদণ্ড, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং নিজেদের মানদণ্ড অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার বিরোধিতা করতে হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ উত্থাপনের এক বছরেরও বেশি সময় পর জেনেভাভিত্তিক ‘ফ্রেন্ডস অব গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানও ‘ফ্রেন্ডস অব গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ গোষ্ঠীর সদস্য।
সূত্র : পার্সটুডে
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








