
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মী ও ঠিকাদারের ব্যক্তিগত ও দাফতরিক তথ্য ফাঁস হয়েছে। বুধবার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে তথ্যস্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গোপন অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয়, নজরদারি কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের বিবরণ।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য হিন্দুস্তান টাইমস ২৯ অক্টোবর এ খবর জানায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া সব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েকজন কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ফোন নম্বরের সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে বার্তা সংস্থাটি।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মীদের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, পদবি ও বিভিন্ন ইমেইল গ্রুপের বিবরণ। এসব তথ্য থেকে জানা যায়, কোন কর্মকর্তা বিশেষ অভিযান, নজরদারি, কম্পিউটার থেকে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং ছদ্মবেশী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সংস্থার। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন কাজ করেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টে (আইসিই)। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের তথ্যও রয়েছে।
ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট জানিয়েছেন, ‘মাইয়া আর্সন ক্রাইউ’ ছদ্মনামে পরিচিত এক হ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক এসব তথ্য খোঁজার জন্য একটি অনুসন্ধান ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষও তথ্যগুলো দেখতে পারবেন। বেস্টের ভাষায়, এই ব্যবস্থা ‘পরিচয় গোপন রাখার বদলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করবে’। সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, সরকারি নথি চাওয়ার আবেদন এবং কংগ্রেসের নজরদারিতেও এটি সহায়তা করবে।
‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্যগুলো পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস। গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘ডিএইচএসের কাছে আমাদের তথ্য আছে, তাই তাদের তথ্য আমাদের কাছে থাকাও ন্যায্য।’ তাদের দাবি, এই তথ্য ব্যবহার করে ডিএইচএসের কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমানো সম্ভব।
তথ্যগুলো ডিএইচএসের ব্যবহৃত ওকটা সাইন-ইন ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে এমা বেস্টের বিবৃতিতে দাবি করা হয়। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। ওকটা জানিয়েছে, তাদের তথ্য বা ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই।
ডিএইচএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তারা জানে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরো তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থায় এটি তৃতীয় বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা। সেপ্টেম্বরে শাইনি হান্টার্স নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) বিপুল তথ্য চুরি করেছে। এতে হাজারো কর্মীর সংবেদনশীল দাফতরিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ছিল। গত সপ্তাহে লাখ লাখ বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় প্রতিরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করা হয়।
এর আগে মার্চে ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ ডিএইচএসের ব্যবস্থায় হ্যাকিং এবং বাইরের ঠিকাদারদের সাথে চুক্তিসংক্রান্ত নথি প্রকাশের দায় স্বীকার করেছিল।
ফাঁসের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের পরিচয় প্রকাশ এবং বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে ডিএইচএসের তৎপরতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। একই সময়ে সংস্থাটি নিজেদের কর্মকর্তাদের পরিচয় ও চেহারা গোপন রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








