যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি এর ফলাফল মেনে নেবেন। তবে তার এ মন্তব্যকে আগামী সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটের ফলাফল নিয়ে সংশয় তৈরির নতুন চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্প এর আগেও ভোট জালিয়াতির বিষয়ে অভিযোগ তুলে আসছেন।

টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি মেনে নেব।’

রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটদের সাথে কাজ করার বিষয়ে ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট সতর্কভাবে সম্মতি জানান।

ওয়াশিংটনের কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কোনো একটা উপায় বের করব। দেখুন, আমার হাতে ভেটো দেয়ার শক্তিশালী ক্ষমতা রয়েছে। আমি আশা করি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তবে এমনটা আগেও অনেক প্রেসিডেন্টের সময় ঘটেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনার হাতে শক্তিশালী ভেটো ক্ষমতা থাকে, আর শেষ পর্যন্ত আপনাকে সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন চুক্তি করতে হয়।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল ঢেউ’ বা বড় ধরনের নির্বাচনী জয়ের আশঙ্কা করছেন রিপাবলিকানরা। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ছে। এর জন্য ভোটাররা রিপাবলিকানদের শাস্তি দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত এক মাসে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। তার লক্ষ্য, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। 

তিনি বলছেন, পরাজয় ঠেকাতে একমাত্র তিনিই সক্ষম।

গত এক মাসে তৃতীয়বারের মতো টেক্সাস সফর তার এই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আরো জোরালো করেছেন।

এখন ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার পথ তৈরি করছেন, এমনকি কোনো ধরনের জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন— এমন আশঙ্কাও করছেন তার কয়েকজন সমালোচক।

সোমবার ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির তথ্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য ১০ লাখ ডলার নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেন।

সূত্র : বাসস