নির্বাচন, হেরে, ব্রাজিল, পালানো, বলসোনারো, ভিসা, যুক্তরাষ্ট্র,ব্রাজিল,
ফ্লাভিও বলসোনারোর। আল জাজিরা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে দেশ থেকে পালালেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়ার এক দিন পর  দেশ থেকে তাঁর পালানোর খবর আসে।

Advertisement

আল জাজিরা মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন কি না, তা ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি।

ফ্লাভিও অর্থ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার তিনি বলেছিলেন, ‘দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি কখনো ভাবিনি।’ পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মোকাবিলা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা পড়েনি। কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত কোনো সীমান্তপথ দিয়ে তিনি দেশ থেকে পালাননি।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ফ্লাভিওর দেশ থেকে পালানোর ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন। তাঁর মতে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ফ্লাভিওর ব্রাজিলেই থাকা উচিত ছিল। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি গোপনে নিজের দেশ ছেড়ে চলে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।’ তিনি আরো বলেন, বলসোনারো পরিবারের কাছে ব্রাজিল দ্বিতীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্রই তাদের প্রথম পছন্দ।

সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও প্রথমে নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন তিনি। তবে সোমবার তাঁর দল এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ফল মেনে নেয়। ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার কাছে ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান ফ্লাভিও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাকে আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে।’ তবে ভোটে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভোট গ্রহণের সময় শেষ মুহূর্তে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও লুলা বড় ব্যবধানে জয়ী হন। সময় বাড়ানোর কারণে নির্বাচনের ফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি জোয়াকিন কাস্ত্রো জানতে চেয়েছেন, ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনে হার আশ্রয় পাওয়ার কারণ হতে পারে না। অথচ ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।’ ব্রাজিলে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ ছিল। কাস্ত্রোর দাবি, ব্রাজিলের আইন লঙ্ঘন করে ফ্লাভিওকে দেশ ছাড়তে সহায়তা করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের কাছে জবাব দিতে হবে।

ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে লবিং করার অভিযোগে জুন মাসে ব্রাজিলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে পডকাস্ট উপস্থাপক স্টিভেন ক্রাউডারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, নির্বাচনে তাঁর ভাই হেরে গেলে দেশ ছেড়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যদি না জেতে, তাহলে সে দেশ ছেড়ে চলে যাক—আমি সেটাই চাই।’