
২০২২ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নয় মার্কিন নাগরিক হত্যার ঘটনায় ইসরাইলের জবাবদিহিতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা সিনেটের এক বক্তৃতায় ভ্যান হোলেন বলেন, ‘আমি আমার সহকর্মীদের কাছে এমন নয়জন মার্কিন নাগরিকের কথা তুলে ধরতে চাই, যারা গত চার বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী অথবা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।’
তিনি জানান, নিহতরা হলেন- ওমর আসাদ (৭৮), আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ (৫১), তৌফিক আবদেল জব্বার (১৭), মোহাম্মদ খদুর (১৭), তুর্কি-মার্কিন কর্মী আইসেনুর এজগি আইগি (২৬), আমের রাবি (১৪), সাইফ মুসাল্লেত (২০), খামিস আয়্যাদ (৪০) ও নাসরাল্লাহ আবু সিয়াম (১৯)।
মার্কিন সিনেটর আরো জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি চেকপয়েন্টে ওমর আসাদকে থামিয়ে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে। তারা তার হাত পেছনে বেঁধে ফেলে, মুখে কাপড় গুঁজে দেয়, চোখ বেঁধে ফেলে এবং বাইরে মাটিতে ফেলে রেখে যায়।
ভ্যান হোলেনের ভাষ্যমতে, মানসিক চাপের কারণে হার্ট অ্যাটাকে আসাদের মৃত্যু হয়।
এদিকে, ২০২২ সালের মে মাসে জেনিন শরণার্থী শিবিরের কাছে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ মাথায় আঘাত পেয়ে নিহত হন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক ইসরাইলি সেনা মাথায় গুলি করে আইসেনুর এজগি আইগিকে হত্যা করে বলে জানান ভ্যান হোলেন। এছাড়া আমের রাবিকে দু’টি ভিন্ন অস্ত্র দিয়ে ১১ বার গুলি করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভ্যান হোলেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিসহ অন্যদের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, হাকাবি মুসাল্লেতের হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি নিজেও তো বলেছিলেন যে এর জন্য জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। তাহলে এখন পর্যন্ত কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি কেন?
প্রতিটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন সিনেটর বারবার বলেন, ‘কাউকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। নয়জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। অথচ কোনো জবাবদিহিতা নেই।’
গত মাসে ভ্যান হোলেনের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সিনেটে ৪৭-৫১ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার দায়িত্ব পড়ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর। এই প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইলি বাহিনী বা দখলদারদের হাতে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ঘটনা এবং এসব বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার কথা ছিল।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








