আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংগৃহীত ছবি

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে। তবে প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে কোনো পদে প্রার্থী হচ্ছেন না।

Advertisement

প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ‘মিডটার্ম’ নামে পরিচিত। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও হাজার হাজার রাজ্য পর্যায়ের পদেও নির্বাচন হবে।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং তার প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়বে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ওয়াশিংটনে দলটির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

২০২৬ সালের এ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।

প্রতিনিধি পরিষদ
৪৩৫ : কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনেই প্রতি দুই বছর পর নির্বাচন হয়।

২১৮ : ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন।

৩ : প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট তিনটি আসন বাড়াতে হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দল পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। এছাড়া একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন এবং দু’টি আসন শূন্য।

এর অর্থ, রিপাবলিকানরা নিট দু’টি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু তিনটি আসন হারালে তা সম্ভব হবে না।

সিনেট ও অঙ্গরাজ্যগুলো
৩৫ : সিনেটের যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে, তার মধ্যে নিয়মিত ছয় বছর মেয়াদি নির্বাচনচক্রের ৩৩টি আসন রয়েছে। ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দু’টি বিশেষ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

১০০ আসনের সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সাথে ভোট দেয়া দুই স্বতন্ত্র সদস্যও অন্তর্ভুক্ত। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। এতে তাদের আসনসংখ্যা ৫১-তে পৌঁছাবে। দুই দলের আসন সংখ্যা ৫০-৫০ হলে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সমতা ভাঙবে।

৩৬ : দেশটির ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হবে। এটি মোট অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।

ছয় হাজার ১৩৯ : দেশটির ৯৯টি রাজ্য আইনসভার মধ্যে ৮৮টিতে নিয়মিত নির্বাচনে ছয় হাজার ১৩৯টি আসনে ভোট হবে।

জনমত জরিপে কী দেখা যাচ্ছে
৫৩-৪১ শতাংশ : আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনে কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন—নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে এ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ১৪ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পিবিএস নিউজ, এনপিআর ও মারিস্ট পরিচালিত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।

একই জরিপে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। এ ভোটারদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন।

৩২ থেকে ৪১ শতাংশ : সেপ্টেম্বরের কয়েকটি বড় জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার এ সীমার মধ্যে ছিল।

গত সপ্তাহে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩১ শতাংশ। এটি তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন হার। অন্যদিকে, মারিস্টের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এ হার ছিল ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ।

জরিপগুলোর পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠী ভিন্ন হওয়ায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তবে কোনো জরিপেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার জোরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ব্যাপক সুবিধা পাওয়ার ইঙ্গিত নেই।

৫৫ শতাংশ : এনবিসি নিউজকে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ বলেছেন, তার নীতি অর্থনীতির উপকার করেছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থব্যয়
প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার : ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে বিজ্ঞাপনের পেছনে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ খাতে ব্যয় হবে ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনের পেছনে ব্যয় হওয়া ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে এ অঙ্ক। এমনকি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনচক্রের ব্যয়ও ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

কিনেটিক পলিটিক্যাল ইনসাইটসের সর্বশেষ হিসাব আরো বেশি। 

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে। সম্ভাব্য ব্যয়ের সীমা ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

৩৩০ মিলিয়ন ডলার : অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বেই বিজ্ঞাপনে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল গভর্নর নির্বাচন হয়ে উঠেছে।

আর এটি ছিল মূল নির্বাচনের আগে কেবল প্রস্তুতিপর্ব।

জেনে রাখার মতো আরো কিছু তথ্য
দুই হাজার ৪৯৭ : এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে দুই হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাদের মধ্যে দুই হাজার ২৩২ জনই প্রতিনিধি পরিষদের আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন।

৪৪ : আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪টি আসনে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একই দুই প্রধান দলের প্রার্থীরা আবারো মুখোমুখি হচ্ছেন।

রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনও হিসাবে নিলে দেশজুড়ে একই প্রার্থীদের মধ্যে ৪৭৪টি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয়, হলিউডের মতো মার্কিন রাজনীতিতেও পুরোনো কাহিনীর পুনরাবৃত্তিতে খুব একটা আপত্তি নেই।

সূত্র : বাসস