
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তবে একটানা চার মেয়াদে নয়, বিরতি দিয়ে আবারো প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন তিনি। দ্বিতীয় দফার ভোটে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়েছেন লুলা। তাঁর জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও রাজনীতিকেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। বামপন্থী নেতারা একে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে দেখছেন। তবে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি তুলেছেন বলসোনারো।
আল জাজিরা সোমবার (২৬ অক্টোবর) জানায়, রোববারের ভোটে দুই ঘণ্টা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বলসোনারো। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন এই সময় বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। দুই প্রার্থীই ভোটের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বলসোনারো।
লুলার জয়ে যা বললেন বিশ্বনেতারা
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম
লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেইনবাউম লিখেছেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছেন।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি
লুলাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কানাডা ও ব্রাজিলের সম্পর্ক আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন কার্নি। তিনি লিখেছেন, ‘চলুন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করি। বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করি, পরিবেশ রক্ষা করি এবং দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি বাড়াই।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকেরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্রাজিলে কোনো রক্ষণশীল সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাত। কিন্তু এবার তারা নীরব রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লুলাকে আবারো নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর এই জয়কে তিনি ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
কংগ্রেস সদস্য রো খান্না বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মানুষ চরমপন্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। ব্রাজিলে লুলার জয় সেই লড়াইয়েরই সাফল্য। তাঁর ভাষায়, কর্তৃত্ববাদী নেতারা গণতন্ত্রকে আক্রমণ করেন, কারণ জনগণের ইচ্ছার কাছে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা নেই। খান্না ট্রাম্পকে নির্বাচনের ফল মেনে নেয়ার এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে দুর্বল করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি লিখেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ জনগণকে কখনো পরাজিত করা যায় না!’
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের গণমাধ্যম দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী পরিবারের উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারে ব্রাজিল ও বিশ্বের অন্য অংশীদারদের পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল
লুলার বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের জনগণের বেছে নেয়া শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথ অব্যাহত থাকবে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বৃহত্তর মাতৃভূমির ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার কাজেও ব্রাজিল কিউবাকে পাশে পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত
লুলার সাথে ফোনে কথা বলে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাস্ত। তিনি বলেন, চিলি ও ব্রাজিলের সামনে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংহতি বাড়ানো এবং এ অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দুই দেশ কাজ চালিয়ে যাবে।
পেরুর প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি
লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্রাজিলের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব, সংহতি ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ফুজিমোরি। দুই দেশের অভিন্ন আমাজন অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ
পাজ বলেছেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দুই দেশের ইতিহাস অভিন্ন, চ্যালেঞ্জও এক। সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে একসাথে কাজ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো
মুলিনো ব্রাজিলের জনগণকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য এবং লুলাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন
লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফন ডার লেয়েন বলেছেন, ব্রাজিলে গণতন্ত্র ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার জয় হয়েছে। ইউরোপ ও ব্রাজিলের অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী দিনগুলোতে অবাধ বাণিজ্য, নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ও জলবায়ু সুরক্ষায় দুই পক্ষ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানান।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া
লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে নোবোয়া বলেছেন, আমাদের অঞ্চলের শত্রু ও চ্যালেঞ্জ এক। একসাথে কাজ করলে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারি।
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা
পেনা ব্রাজিলের জনগণকে ‘গণতন্ত্রের এই বড় যাত্রার’ জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংহতি ও উন্নয়নে দুই দেশের অভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। জনগণের কল্যাণে তারা একসাথে কাজ চালিয়ে যাবেন।
উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি
ওরসি জানিয়েছেন, লুলার সাথে তাঁর কথা হয়েছে। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি লুলাকে তাঁর ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রেরই এক উদ্যাপন।
আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিনা কির্শনার
কির্শনার প্রথমে ব্রাজিলের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এরপর লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তিনি নিজের দেশের মানুষের মধ্যে আবেগ ও জয়ের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে এই লড়াইয়ে জিততে পেরেছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








