
তীব্র মেরুকরণপূর্ণ এবং তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে হারিয়ে ফের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এই পরাজয় ট্রাম্পের জন্য বড় একটি আঘাত বিবেচিত হচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ এবং দুর্নীতিবিষয়ক উদ্বেগ, সেইসাথে ব্রাজিল ও পুরো ল্যাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক হাওয়ার মধ্যেই আয়োজিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয় পেলেন ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়লেন তিনি।
পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে ব্রাজিলে প্রত্যক্ষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ব্যবস্থা পুন:চালুর পর এই প্রথম কোনো প্রার্থী প্রথম ধাপের ভোটে দ্বিতীয় স্থানে থেকেও চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয়লাভ করলেন। রোববার (৪ অক্টোবর)-এর প্রথম ধাপের নির্বাচনে লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বোলসোনারো; যা প্রাথমিক অবস্থায় বোলসোনারোর প্রচারণায় বড় মনস্তাত্ত্বিক গতি এনে দিয়েছিল। সেখানে বোলসোনারো পেয়েছিলেন ৪৭.০৩ শতাংশ ভোট এবং লুলা পেয়েছিলেন ৪৫.১৬ শতাংশ ভোট—দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ লাখ ভোট।
লুলার এই জয় বোলসোনারো রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা। ২০২২ সালের নির্বাচনে ফ্লাভিও বোলসোনারোর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ব্যালট বাক্সে লুলাকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন; এবার তার ছেলেও বাবার সেই অসম্পূর্ণ কাজ হাসিল করতে পারলেন না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে কিছুটা নাটকীয়তার মুখোমুখি হয়। দুই প্রার্থীর ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদনের পর দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্টিয়ানো জানিন ভোট গ্রহণের সময় অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বাড়ানোর আদেশ দেন।
লুলার নির্বাচনী প্রচারণা দল যুক্তি দিয়েছিল যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।
অন্যদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে দক্ষিণপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বোলসোনারোর টিমও কিছু এলাকার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। কিন্তু সময় বাড়ানোর এই হঠাৎ আদেশে সারাদেশের কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিকেল ৫টায় যখন ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্রাসিলিয়া থেকে এই নির্দেশ আসে; ততক্ষণে বহু ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট ও সুপিরিয়র ইলেকট্রোরাল কোর্ট স্পষ্ট করে জানায় যে কেবল যেসব কেন্দ্র এখনো বন্ধ করা হয়নি, সেগুলোই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে ফ্লাভিও বোলসোনারোর নির্বাচনী প্রধান ‘লজ্জাজনক ও অসময়োচিত‘ বলে তীব্র সমালোচনা করেন।
এই ফলাফলের প্রভাব ব্রাজিলের সীমানা পেরিয়ে বৈশ্বিক স্তরেও অনুভূত হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যেও লুলার নেতৃত্বে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখবে এবং গ্লোবাল সাউথ ও চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার নীতি অব্যাহত রাখবে।
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে তিনি ব্রাজিলের রান-অফ নির্বাচনের ওপর ‘নজর রাখছেন।’ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও প্রথম ধাপে ফ্লাভিওর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছিলেন এবং এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছিলেন। সূত্র : সিএনএন
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








