যুদ্ধক্ষেত্র, যন্ত্রের আধিপত্য, উদ্বেগ, জাতিসংঘ,  নিশানা, হত্যা,  অনুমতি,  মানবজাতি,
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক রবিন গেইস মানবজাতির সামনে এই প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সামরিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কমে আসছে যন্ত্রের গতিতে। এতে পারমাণবিক ক্ষেত্রেও মানুষের বিচার-বিবেচনার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

Advertisement

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বুধবার (২১ অক্টোবর) জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গেইস। জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইউএনআইডিআইআর) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক উৎকর্ষ কেন্দ্রের নতুন উদ্যোগ নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সামরিক কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিমধ্যে এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, ড্রোন পরিচালনা, সাইবার হামলা ও তথ্যযুদ্ধ।

গেইস বলেন, ‘আমরা যখন কথা বলছি, তখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কমে আসছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি যন্ত্রের গতির কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। এতে মানুষের বিচার-বিবেচনার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে, এমনকি পারমাণবিক ক্ষেত্রেও।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই প্রযুক্তির বিস্তারে উন্নত সামরিক অভিযান পরিচালনার বাধা কমে আসছে। ফলে রাষ্ট্রের বাইরের গোষ্ঠীগুলোর পক্ষেও জটিল ও উন্নত অভিযান চালানো সহজ হয়ে উঠতে পারে।

গেইসের মতে, অল্প কয়েকটি দেশ ও কোম্পানি এখন নিরাপত্তার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। অথচ প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কাঠামো এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি হয়নি।

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনাকে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বলেন, এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো ভূরাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বড় শক্তিগুলোও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে।

সুইজারল্যান্ড ও পাকিস্তানের সাথে মিলে ইউএনআইডিআইআর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে নতুন একটি ফোরাম চালু করবে। গেইসের ভাষায়, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কাজ করার এটিই একমাত্র বহুপক্ষীয় ফোরাম।

চলতি সপ্তাহে আরো তিনটি উদ্যোগের ঘোষণা দেবে সংস্থাটি। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য, কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রস্তাব করা। একই সাথে এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকানোর উদ্যোগ যেন শান্তিপূর্ণ কাজে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ও সুফল থেকে মানুষকে বঞ্চিত না করে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক এআইয়ের প্রতিযোগিতা মূলত গতির প্রতিযোগিতা বলে মন্তব্য করেন গেইস। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সেন্সর দিয়ে কোনো লক্ষ্য শনাক্ত করা থেকে শুরু করে সেখানে অস্ত্রের আঘাত হানা পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনা। অর্থাৎ, লক্ষ্য শনাক্ত হওয়ার পর হামলা চালাতে সামরিক বাহিনীগুলো যত কম সময় নিতে পারবে, তাদের কাছে তত দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

গেইস বলেন, ‘ঝুঁকিটা শুধু নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামরিক কার্যক্রমে যন্ত্রের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে পুরো প্রক্রিয়ার ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।’