
ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড় প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের কয়েক দিন আগে এ খবর বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আমাজনের তিন হাজার ৩৩৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ হার প্রায় ৪২ শতাংশ কম। ১৯৮৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর বন উজাড়ের হার এটাই সর্বনিম্ন।
রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী জোয়াও পাওলো কাপোবিয়াঙ্কো বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য রকমের বড় পতন। মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন দেখছি।’
লুলাও এ পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানিয়েছেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে রক্ষণশীল সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সাথে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে।
অভিজ্ঞ বামপন্থী নেতা লুলা ক্ষমতায় ফিরে অবৈধভাবে বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার কট্টর ডানপন্থী পূর্বসূরি ফ্লাভিও’র বাবা জইর বলসোনারোর শাসনামলে গবাদিপশুর খামারিদের বনভূমি পরিষ্কার ও অবৈধ খননকাজের কারণে বন উজাড়ের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছিল।
শুক্রবার বন উজাড়ের পরিসংখ্যান প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুলা আবারো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় পুরোপুরি বন্ধ করা।’
বিশ্বের বৃহত্তম এই চিরহরিৎ বনাঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণে এ বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বন উজাড়ের সরকারি হার নির্ধারণ করা হয় ‘প্রোদেস’ নামের স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। এটি পরিচালনা করে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা জাতীয় ইনস্টিটিউট।
২০২২ সাল থেকে আমাজনে বন উজাড়ের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। লুলা নির্বাচিত হওয়ার পর চার বছরে এ হার মোট ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
অবৈধভাবে গাছ কাটা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়াকে এ সাফল্যের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জইর বলসোনারোর শাসনামলে বন উজাড়ের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান পরিসংখ্যান তার নাটকীয় বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জইর বলসোনারোর শাসনামলে আমাজনের প্রায় ১১ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়েছিল। আগের চার বছরের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগরত জইর বলসোনারোর প্রশংসা করেছেন তার ছেলে ফ্লাভিও। তিনি বলেন, তার বাবা যাকে ‘উগ্র পরিবেশবাদী কর্মসূচি’ বলে অভিহিত করেন, তিনি তার বিরোধিতা করেছিলেন।
তবে ফ্লাভিও পরিবেশকে ‘কৌশলগত সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং একইসাথে ২০২৯ সালের মধ্যে ‘অবৈধ বন উজাড়’ বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্ব
আমাজনের দক্ষিণে বিস্তৃত সেরাডো তৃণভূমি থেকেও ইতিবাচক খবর এসেছে। সেখানে বন উজাড়ের হার ২০০১ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এ অঞ্চলের পাঁচ হাজার ৫১৭ বর্গকিলোমিটার প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আচ্ছাদন ধ্বংস হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ হার প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে।
শতাধিক নাগরিক সংগঠনের নেটওয়ার্ক ক্লাইমেট অবজারভেটরির নির্বাহী সম্পাদক মার্সিও আস্ত্রিনি এ পরিসংখ্যানকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে, বন রক্ষায় ব্রাজিল অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে করাতের ব্যবহার এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো সম্ভব।’
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








