
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে জ্বালানির দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা—এমন অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এ ঘটনা তিনি ‘কখনোই ভুলবেন না’।
ইয়েমেনে গত জুলাইয়ে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দেশটির সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট, অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে হাউছি বিদ্রোহীরা। এর কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বিশ্ব জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
এরপর থেকে হাউছিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, তেলবাহী জাহাজ ও পরিবহনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাও চালায় তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে হাউছিদের কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘হাউছিরা খুব খারাপ আচরণ করছে’ এবং তারা ‘সম্ভবত ইরানের নির্দেশে’ কাজ করছে।
ট্রাম্প আরো অভিযোগ করেন, হাউছিরা সাম্প্রতিক সময়ে ‘অত্যন্ত জঘন্য আচরণ করছে। সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে—এটি মোটেও ভালো কাজ নয়’।
রিয়াদের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হাউছিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি-না, তা তিনি বিবেচনা করছেন।
তবে মঙ্গলবারের পোস্টে হাউছিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের প্রভাবকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, কেউ একজন তাদের বুঝিয়ে বলা উচিত, আমি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি না, তবে নির্বাচনের পর আমি সেখানে থাকব, আর এই ঘটনা আমি কখনোই ভুলব না!
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতে নিজ দলের প্রতি সমর্থন বাড়াতে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এবার সিনেট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এমন রাজ্যগুলোতে সমাবেশ করছেন তিনি।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম এ বছর ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেয়ার বিষয়টি ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার কয়েক মাস আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চালানো হামলার জবাবে বন্ধ করা হয়। এর জেরে শুরু হওয়া সংঘাত ক্রমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








