মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি তার প্রশাসন বিবেচনা করছে বলে সোমবার প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক বিব্রতকর তথ্য প্রকাশের পর চাপের মুখে পড়েছেন গিলফয়েল।

Advertisement

ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগদত্তা গিলফয়েলকে বরখাস্তের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি। আমরা খুশি নই।’

গত কয়েক দিনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গিলফয়েলকে নিয়ে একাধিক বিব্রতকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক গিলফয়েল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ।

পত্রিকাটি প্রমাণ হিসেবে কিছু স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিলফয়েল প্রেসিডেন্টের প্রভাবশালী সমর্থক এরিক ডিটার্সকে তার ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের এক লাখ ডলারের ঋণ মওকুফ করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গিলফয়েল ডিটার্সকে খুদে বার্তায় লেখেন, ‘প্রিয়, দয়া করে আজই আমার জন্য কাজটি করে দাও। এটা আমার খুব দরকার।’ ওই বার্তার সাথে তিনি তার ক্রেডিট কার্ড প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের নির্দেশনাসংবলিত একটি পিডিএফ ফাইলও পাঠান।

পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিটার্স ওই অর্থ পরিশোধ করেননি। তিনি গিলফয়েলকে জানিয়েছিলেন, এ অর্থ পরিশোধ করলে তার সংসার ভেঙে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপ সফরের সময় এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তার সফরের অন্যতম গন্তব্য ছিল গ্রিসের রাজধানী এথেন্স।

পত্রিকাটি গিলফয়েলের কয়েক শত খুদে বার্তা, ই-মেইল ও চিঠি পর্যালোচনা করেছে। এসবের মধ্যে রেকর্ড করা কথোপকথনও রয়েছে। সেগুলোতে গিলফয়েলকে ধনী গ্রিক ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে বিলাসবহুল ভ্রমণ ও অবকাশযাপনের কথা বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রিসের নির্মাণপ্রতিষ্ঠান অ্যাক্টর গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্দ্রোস এক্সারকোর সাথে ব্যক্তিগত বিমানে করে দাভোসে গিয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া গ্রিসের জাহাজ ব্যবসায়ী নিকোলাস সাকোসের সাথে সুইজারল্যান্ডের অভিজাত অবকাশকেন্দ্র গস্তাদে বড়দিন কাটান গিলফয়েল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিলফয়েল বলেন, ‘প্রিয়, আমি তার সাথে বড়দিন কাটিয়েছি। নববর্ষও। ঠিক আছে? গস্তাদে। মানে, সব জায়গায়।’

সাকোসের স্ত্রীর ফ্যাশন শোতে যোগ দিতে তার সাথে প্যারিস সফরের সময় গিলফয়েল এক সপ্তাহ ফোর সিজনস হোটেল জর্জ ফাইভে ছিলেন। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হোটেলে থাকার সব খরচ বহন করেন সাকোস।

পত্রিকাটির উদ্ধৃত আরেকটি কথোপকথনে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে আয়োজিত এক নৈশভোজের অতিথি তালিকায় নিজের নাম না দেখে গিলফয়েল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে, সাম্প্রতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গিলফয়েলের বিরুদ্ধে স্বার্থের সঙ্ঘাতের আরো কয়েকটি সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
সূত্র : বাসস