
ইরান বা দেশটির ব্যাংকিং খাতের সাথে ব্যবসা করলে বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সোমবার (৫ অক্টোবর) সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক সতর্কবার্তায় বলেছে, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে লেনদেন অব্যাহত রাখলে বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেকোনো সময় আগাম নোটিশ ছাড়াই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। তাই তাদের অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম ও সম্পর্ক বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের নেতৃত্বের বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানায় ওয়াশিংটন।
এরপর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
আগস্টের শেষ দিক থেকে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা আরো জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। ইরান সরকারের সাথে লেনদেন চালিয়ে গেলে মিত্র দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের আর্থিক খাতের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি, রেল, গাড়ি ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি এবং তুরস্কের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবারের সতর্কবার্তায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালানোর জন্য তথাকথিত ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম শনাক্ত করা এবং তা এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








