
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের তিনটি ক্যাথলিক ডায়োসিসে কয়েক দশক ধরে প্রায় এক হাজার শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ছিলেন ২৭০ জনের বেশি যাজক। বুধবার প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমস বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জানায়, অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল আন্দ্রেয়া জয় ক্যাম্পবেলের প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এসব নিপীড়নের ঘটনা এবং এসব ঘটনা বন্ধ দুঃখজনক ভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। ফল রিভার, স্প্রিংফিল্ড ও ওরচেস্টার ডায়োসিসে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে ২০০২ সালের আগে। ওই বছর বোস্টন গ্লোব পত্রিকার পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বোস্টনের রোমান ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের কর্মকর্তাদের যাজকদের হাতে শিশু নিপীড়নের ঘটনা নিয়মিত ধামাচাপা দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্যাথলিক ডায়োসিসে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
ক্যাম্পবেল বলেন, ম্যাসাচুসেটসের তিনটি ডায়োসিসের কর্তৃপক্ষও জানত, যাজকদের হাতে শিশুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। কিন্তু শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে গির্জার সুনাম রক্ষাকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে নিপীড়নের শিকার এক একটি শিশু, চিরতরে বদলে যাওয়া এক একটি পরিবার এবং বছরের পর বছর, অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে সেই নিপীড়নের যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো এক একজন মানুষ।'
ওরচেস্টার ডায়োসিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে অতীতে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় আরো কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় নেয়া উদ্যোগও আরো জোরদার করা হবে।
ফল রিভারের বিশপ এডগার দা কুনহা নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় অতীতে ঘটে যাওয়া ব্যর্থতা ও অবহেলার বিবরণে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
২০০২ সালে বোস্টন গ্লোবের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক গির্জাগুলোতে শিশু নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া 'স্পটলাইট' চলচ্চিত্রেও ওই অনুসন্ধানের ঘটনা তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনার পর ম্যাসাচুসেটসের আইনপ্রণেতারা একাধিক সংস্কারমূলক আইন পাস করেন।
২০১৯ সালে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাউরা হিলি ফল রিভার, স্প্রিংফিল্ড ও ওরচেস্টার ডায়োসিসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেন। শিশু নিপীড়ক যাজকদের তদারকির ক্ষেত্রে ডায়োসিসগুলো বা তাদের নেতাদের দায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই ছিল এ তদন্তের উদ্দেশ্য।
বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যাম্পবেল জানান, তদন্তের সময় তাঁর দপ্তর তিনটি বিষয় স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নিদের কাছে পাঠান। এর মধ্যে ওরচেস্টারের একটি ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় কিছু কর্মকাণ্ড আইনত অপরাধ না হওয়ায় এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে মামলা করার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর দপ্তর কোনো ফৌজদারি মামলা করেনি।
ক্যাম্পবেল জানান, শৈশবে এক আত্মীয়ের হাতেও তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর মতে, তদন্তে উঠে আসা ঘটনাগুলো নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, শৈশবে নিপীড়নের ঘটনায় দেওয়ানি মামলা করার সময়সীমা তুলে দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








