
কানাডার ফরাসি ভাষাভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ কুইবেকে এক দশকেরও বেশি সময় বিরোধী দলে থাকার পর আগামী সপ্তাহে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল দ্য পার্টি কুইবেকোয়া (পিকিউ)।
দলটি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা কুইবেকের স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট আয়োজন করতে চায়।
৫ অক্টোবরের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে পিকিউ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। কিছু সময় দলটির জনপ্রিয়তায় সামান্য ভাটা পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের এই প্রদেশে সরকার গঠনের দৌড়ে পিকিউকেই এগিয়ে রয়েছে।
কানাডার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার সাথে পিকিউর এই উত্থানের কিছুটা বৈপরীত্য রয়েছে। ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে জাতীয়তাবোধ জোরালো হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরোধিতায় কানাডীয় জাতীয়তাবোধকে উজ্জীবিত করা উদারপন্থী প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কুইবেকেও জনপ্রিয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপ অনুযায়ী, কুইবেকের মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে।
কুইবেকের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভ্যালেরি গদ্রোর মতে, পিকিউর জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে মূল কারণ বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নয়; বরং বর্তমান প্রাদেশিক সরকারের প্রতি মানুষের হতাশা, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ।
দৈনিক লে সোলেই-এর এই লেখক বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই বেশি শক্তিশালী।’
‘সাহসী সংগ্রাম’
পিকিউ নেতা পল সাঁ-পিয়ের প্লামন্দোঁ (সংক্ষেপে ‘পিএসপিপি’ নামে পরিচিত) বলেছেন, তার দল কুইবেককে কানাডা থেকে আলাদা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত সপ্তাহে দলীয় নেতাদের বিতর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের এই সাহসী সংগ্রামের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি দেশে ফরাসি ভাষায় টিকে থাকা, যে দেশ মূলত ইংরেজি ভাষাভাষী এবং নিজেদের একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই মুহূর্তটা আসছে।’
তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে তিনি কুইবেকের স্বাধীনতা সম্ভব বলে মনে করেন না।
গত মাসে পিএসপিপি বলেন, কুইবেকের স্বাধীনতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এমন পরিস্থিতি প্রয়োজন, যাতে বিষয়টি নিয়ে তথ্যভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা করা যায়।
তিনি আরো বলেন, এই আলোচনা যেন ‘আমেরিকার রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অস্থির এক প্রেসিডেন্টের নাটকীয় কর্মকাণ্ডের কারণে প্রভাবিত না হয়।’ এ কারণে তিনি অন্তত ২০২৯ সালের আগে স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
পিএসপিপির প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করছে।
প্রাদেশিক লিবারেল পার্টির নেতা চার্লস মিলিয়ার্ড বিতর্কে বলেন, ‘আমাদের সৎ হতে হবে—এই নির্বাচনই একটি গণভোট।’
সোমবার প্রকাশিত লেজার জরিপে পিকিউ’র সমর্থন ৩০ শতাংশ পাওয়া গেছে। লিবারেল পার্টি ২৬ শতাংশ নিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন আভেনির কুইবেক (সিএকিউ)-এর সমর্থন নেমে এসেছে ১৬ শতাংশে।
বিভিন্ন দলের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ১২৭ আসনের কুইবেক প্রাদেশিক আইনসভায় পিকিউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।
এমন ফল পিকিউর জন্য শক্তিশালী এবং কিছুটা অপ্রত্যাশিত সাফল্য হতে পারে। তবে এর অর্থ কুইবেকের স্বাধীনতার পথ নিশ্চিত হওয়া নয়। এর আগে ১৯৮০ সালে স্বাচ্ছন্দ্যে এবং ১৯৯৫ সালে খুব অল্প ব্যবধানে কুইবেকের ভোটাররা কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কার্নির নীরব অবস্থান
কুইবেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পুনরুত্থান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্যও একটি স্পর্শকাতর সময়ে ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর কানাডার নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কার্নি স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন।
কুইবেকের নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর তেলসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টায় কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার বিষয়ে একটি গণভোট (বাধ্যতামূলক নয়) হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালানোর পরিবর্তে কার্নি এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নীরব অবস্থান নিয়েছেন। কুইন্স ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টেফানি শুইনার্ডের মতে, এর কারণ হলো তিনি যেন কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের মুখে না পড়েন।
তিনি বলেন, কার্নি আলবার্টায় ‘উত্তেজনা আরো বাড়াতে’ বা কুইবেকে ‘এসব ধারণাকে আরো উসকে দিতে’ চান না।
তবে পশ্চিম কানাডার বাসিন্দা কার্নি কানাডার দ্বিভাষিকতার প্রতি নিজের অঙ্গীকার জানানোর বিভিন্ন ওপায়ও খুঁজে নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে দেয়ার অন্যতম কারণ ছিল—অনলাইন অ্যালগরিদমে ফরাসি ভাষার সুরক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করার বিধান যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








