
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সর্বত্র সবার জন্য সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনীতিক, জলবায়ুকর্মী, কূটনীতিক ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের নেতারা। এ দাবিতে খোলা চিঠিতে সই করেছেন মোট ২৮ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, জলবায়ুকর্মী ও অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, লেখক ও জলবায়ুকর্মী বিল ম্যাককিবেন এবং পরিবেশকর্মী ইয়েব সানো।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলার সময় বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে এই খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও জলবায়ু বিপর্যয়ে বিশ্ব যখন একের পর এক সংকটের মুখে পড়ছে, তখন সস্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে ঘিরে সবাইকে এক হতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, ইরানের যুদ্ধ থেকে ইউরোপের দাবানল এবং নেপালের ধসে পড়া হিমবাহ—সবকিছুই দেখিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব কতটা সংকটের মধ্যে রয়েছে। দিল্লির বায়ুদূষণ, ভিয়েতনামে জ্বালানির উচ্চমূল্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের খরচ এবং হিমালয়ে ভয়াবহ বন্যার পেছনেও জীবাশ্ম জ্বালানির যোগ রয়েছে।
চিঠির স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, প্রায় ১০০ কোটি মানুষ এখনো নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত। অথচ সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও ব্যাটারি ব্যবহার করে দ্রুত এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
তারা সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব, যাদের সামর্থ্য আছে তারা অর্থ সহায়তা করবেন, যাতে অন্যরা পড়াশোনা, রান্না ও চিকিৎসার জন্য বিদ্যুৎ পেতে পারেন। মাত্র ১৫ ডলারে একজন মানুষের এক প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সরকারগুলোকে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আগামী ২০ জুনকে ‘সান ডে’ হিসেবে পালন করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরো দ্রুত বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
স্বাক্ষরকারীদের ভাষায়, পথ কঠিন হলেও করণীয় পরিষ্কার—‘চলতি দশক শেষ হওয়ার আগেই আমরা সবার জন্য, সর্বত্র সৌরবিদ্যুৎ চাই।’








