
জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে সাধারণ পরিষদের আলোচ্যসূচিতে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন দুই পক্ষ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুতেরেসের উদ্যোগ নিয়েও তারা মতবিনিময় করেন।
নিউইয়র্ক সফর শুরুর আগে ইরানি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে ইরানি জনগণের অধিকার, স্বার্থ ও বৈধ দাবিগুলো তুলে ধরাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।
আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘কাপুরুষোচিত যুদ্ধ’ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের পর এই সফর হচ্ছে।
তার ভাষায়, জাতিসঙ্ঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ফোরাম। নিজেদের অবস্থান ও বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য এটি দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ।
তিনি বলেন, ইরান প্রতিবছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
জাতিসঙ্ঘের ওপর আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন আরাগচি। তার অভিযোগ, কিছু দেশ ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইন বা সম্মিলিত মানবিক বিবেকের তোয়াক্কা না করে’ কাজ করছে।
প্যালেস্টাইন, গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরাইলের ‘অপরাধের’ বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলো যথাযথভাবে নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, জাতিসঙ্ঘের ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’। এই আস্থা কীভাবে নষ্ট হয়েছে এবং কীভাবে তা পুনর্গঠন করা যায়, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছান আরাগচি।
জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দপ্তরে চলমান এই বিতর্ক ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য, ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা : সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসঙ্ঘ।’








