
সুদানের রাজধানী খার্তুমের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) এ হামলায় খার্তুম ও আল-জাজিরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরএসএফের ড্রোনগুলো আল-মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে খার্তুম ও আল-জাজিরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।’
এর মাত্র এক দিন আগে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়ে পূর্ব সুদানের চারটি প্রদেশের ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল আরএসএফ। ওই হামলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ত্রাণকর্মীদের ধারণা, এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সঙ্কটগুলোর সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ বারবার সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর থেকে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ খার্তুম প্রদেশে ফিরে এসেছেন। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটিতে ফিরে অনেকেই নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজধানীর বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ এখনো অনিয়মিত। অবিস্ফোরিত বোমার ঝুঁকির কারণে শহরের বড় অংশ এখনো নিরাপদ নয়। পাশাপাশি অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় বহু মানুষকে খাবার জোগাড় করতেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
বর্তমানে সুদানের যুদ্ধে ড্রোন হামলা প্রধান কৌশলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় একেকবারে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ড্রোন হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকশ মানুষ।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার ফলে সুদানে বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








