ইবোলা ভাইরাসের নমুনা
ইবোলা ভাইরাসের নমুনা। সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ায় শনাক্ত ইবোলায় আক্রান্ত প্রথম রোগীর শরীরে পাওয়া ভাইরাসের সাথে কেনিয়ায় শনাক্ত প্রথম রোগীর ভাইরাসের জিনগতভাবে ‘ঘনিষ্ঠ মিল’ রয়েছে। জিনগত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

Advertisement

গত মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। তিনি সুইজারল্যান্ডের আবুজায় অবস্থিত দূতাবাসের এক কর্মীর স্ত্রী। গত ৩ অক্টোবর উগান্ডা থেকে দেশে ফেরার পর তিনি আক্রান্ত হন।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, ওই নারী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) সফর করেননি। 

অথচ এর আগে উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত ছিল। বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতেই ইবোলার এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ওই নারীর সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এর আগে আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) ধারণা দিয়েছিল, বিমানবন্দরে কেনিয়ায় শনাক্ত প্রথম ইবোলা রোগীর সংস্পর্শে এসে তিনি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। ওই রোগীও একই দিনে উগান্ডা থেকে বিমানে যাত্রা করেছিলেন।

জিনগত বিশ্লেষণের ফলাফল তুলে ধরে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নাইজেরিয়ার রোগীর ভাইরাসটি কেনিয়ায় শনাক্ত প্রথম রোগীর ভাইরাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেনিয়ার ওই প্রথম রোগীর এমন কোনো ভ্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা তার সাথে নাইজেরিয়ার রোগীর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে। তবে ভাইরাস দু’টির মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নাইজেরিয়ার রোগীর ভাইরাসটি কেনিয়ায় শনাক্ত ভাইরাসের সাথে ‘অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ’।

ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও কেনিয়ার পর নাইজেরিয়া হলো আফ্রিকার চতুর্থ দেশ, যেখানে বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছে।

গত মে মাসে ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত রোগটি প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়ে।

উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করার আগে সেখানে ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। আগস্টে দেশটিতে প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মহামারিতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা নয় হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন চার হাজার ৬৯০ জন।

সূত্র : বাসস