
২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে শুরুতেই বড় ব্যবধান গড়ে এগিয়ে রয়েছেন ডানপন্থী রাজনীতিবিদ মেরিন ল্য পেন। সর্বশেষ ইফপ-ফিদুসিয়াল জনমত জরিপে প্রথম দফার ভোটের হিসেবে তার পক্ষে রয়েছে ৩২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ পেয়েছেন ১৬ শতাংশ। মাত্র এক শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে ১৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বামপন্থী নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশঁ।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম এলসিআই, ল্য ফিগারো ও স্যুদ রাদিওর পরিচালিত এ জরিপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে জরিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র হলো, প্রথম দফায় ল্য পেন অন্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, সে লড়াই এখনো বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
বর্তমান সমীকরণে সে দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন এদুয়ার ফিলিপ। ১৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তিনি মেলঁশঁর চেয়ে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে। ফলে আজ নির্বাচন হলে ল্য পেনের সাথে দ্বিতীয় দফায় লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ফিলিপই আপাতত সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সামান্য ব্যবধানের কারণে মেলঁশঁও এখনো সে লড়াই থেকে ছিটকে যাননি।
ল্য পেনের ৩২ শতাংশ সমর্থন ফিলিপের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে প্রথম দফার ভোটের হিসেবে তার অবস্থান এখন বেশ শক্ত। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয় দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হন।
এনিয়মের কারণেই প্রথম দফায় ল্য পেনের বড় ব্যবধানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই। ফিলিপ ও মেলঁশঁর মধ্যে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান আগামী মাসগুলোতে ফরাসি রাজনীতির অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে উঠতে পারে।
জরিপে ১১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন সমাজতান্ত্রিক দল পার্তি সোশিয়ালিস্ত ও প্লাস পাবলিকের সম্ভাব্য প্রার্থী রাফায়েল গ্লুকসম্যান। প্রেসিডেন্টপন্থী রেনেসাঁস দলের গাব্রিয়েল আতাল পেয়েছেন ৮ শতাংশ এবং ডান-মধ্যপন্থী লে রিপুবলিক্যাঁ দলের ব্রুনো রেতাইয়ো ৭ শতাংশ সমর্থন।
এরিক জেমুরের পক্ষে রয়েছে ৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন। পরিবেশবাদী রাজনীতিবিদ মারিন তঁদেলিয়ে পেয়েছেন ৩ শতাংশ, ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির ফাবিয়াঁ রুশেল ২ দশমিক ৫ শতাংশ, নিকোলা দ্যুপোঁ-এনিয়ঁ ১ শতাংশ এবং নাতালি আরতো শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
ল্য পেনের সামনে বড় প্রশ্ন দ্বিতীয় দফা। বর্তমান জরিপে ল্য পেনের প্রথম দফার অবস্থান শক্ত হলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কারণ ফরাসি নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটের পর রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যেতে পারে। দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটিও চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইফপ-ফিদুসিয়ালও এ জরিপকে ২০২৭ সালের নির্বাচনের চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ রাখছে না। সম্ভাব্য প্রার্থী, রাজনৈতিক জোট, নির্বাচনী প্রচারণা ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে ভোটারদের মনোভাবও বদলে যেতে পারে।
তবে নির্বাচনের বর্তমান চিত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট—মেরিন ল্য পেন প্রথম দফার দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। তার পরের জায়গাটি নিয়েই এখন মূল লড়াই। সেখানে এদুয়ার ফিলিপ মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে জ্যাঁ-লুক মেলঁশঁর চেয়ে এগিয়ে।
অর্থাৎ বর্তমান জনমত যদি নির্বাচনের সময় পর্যন্ত মোটামুটি একই থাকে, তাহলে প্রথম দফায় ল্য পেনের সাথে দ্বিতীয় দফায় লড়াইয়ের সম্ভাবনায় এদুয়ার ফিলিপই এগিয়ে থাকবেন। আর মেলঁশঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এ এক শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা।
২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তাই আপাতত দুটি প্রশ্ন সামনে আনছে; প্রথম দফায় ল্য পেনকেকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন ও দ্বিতীয় দফায় তার বিরুদ্ধে ফরাসি ভোটারদের বড় অংশকেকে একত্র করতে পারবেন? বর্তমান জরিপে প্রথম প্রশ্নের উত্তর এদুয়ার ফিলিপের পক্ষে গেলেও, নির্বাচনের মাঠ এখনো পুরোপুরি খোলা।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








