
বাংলাদেশ সরকারের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিনে, মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ৪৬ হাজারের বেশি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন। একই সময়ে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো জোরদারে ৫৫০টিরও বেশি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে হাইকমিশনের হলরুমে প্রবাসীদের সাথে একটি সরাসরি সংলাপ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে হাইকমিশন।
যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘সেবা, সম্পৃক্ততা, সংলাপ — আপনার কথা, আগামীর পথ!’। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম, গত ছয় মাস বা ১৮০ দিনের অগ্রগতি, প্রবাসীদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে হাইকমিশনের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সাথে তারা প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, মতামত, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে সরাসরি শোনেন।
এ অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের কর্মকর্তাসহ উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো: খলিলুর রহমান এবং দেশটিতে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশ।
প্রথম ১৮০ দিনে হাইকমিশনের কনস্যুলার, শ্রম ও কল্যাণ শাখা সম্মিলিতভাবে ৪৬ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত সেবা কার্যক্রম ও হস্তক্ষেপ পরিচালনা করেছে। একই সময়ে হাইকমিশনের কূটনৈতিক শাখা দ্বিপাক্ষিক, অর্থনৈতিক, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ও জনকূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৫০টিরও বেশি সমন্বিত সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে কনস্যুলার, শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট, নথি সত্যায়ন, শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা, আউটপাস ও জরুরি সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবা দেয়া হয়েছে। একই সময়ে তারা ৪২ জন মৃত প্রবাসী বাংলাদেশীর লাশ দেশে পাঠাতেও সহায়তা করেছেন।
এর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু, নীল অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতেও তারা কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশী প্রবাসীদের কল্যাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিটি অভিযোগ ও সমস্যাকে আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি। সব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেতু। তাদের অবদান শুধু অর্থনৈতিক নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা ও বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আজকের এ সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য দেয়া হয়েছে— ‘সেবা, সম্পৃক্ততা, সংলাপ — আপনার কথা, আগামীর পথ!’।
একটি কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তাদের কথা শোনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়াও মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ।








