ফ্রান্স
লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গস নয়া দিগন্ত

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লাটভিয়ার সাথে ফরাসি পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের এক উপদেষ্টা। রাশিয়া ও তার মিত্র বেলারুশের সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য লাটভিয়ার নিরাপত্তা জোরদারে ফ্রান্স সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ফরাসি গণমাধ্যম ল্য মোঁদ ও ফ্রান্স ইনফোর সূত্র অনুযায়ী,লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মঙ্গলবার জানান, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ লাটভিয়ার সাথে ফ্রান্সের ‘অ্যাডভান্সড’ বা সম্প্রসারিত পারমাণবিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি ফরাসি প্রতিনিধিদল শিগগিরই লাটভিয়া সফর করতে পারে।

লাটভিয়ার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, ম্যাক্রোঁ দেশটিতে ফরাসি সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন কুলবার্গসের উপদেষ্টা।

ফ্রান্স ইতোমধ্যে বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমা সুরক্ষায় ন্যাটোর ‘এয়ার পুলিশিং’ কার্যক্রমে অংশ নেয়। ২০০৪ সালে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর এই ব্যবস্থা চালু হয় এবং ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর তা আরো জোরদার করা হয়।

ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ চলতি বছরের মার্চে ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য হলো, আগ্রহী ইউরোপীয় দেশগুলোকে ফরাসি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে বৃহত্তরভাবে যুক্ত করা। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ফ্রান্সের কাছেই থাকবে; উদ্যোগটিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সাথে সেই সিদ্ধান্ত ভাগ করার কথা নেই।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বলে ফরাসি পক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ইউরোপীয় দেশ লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়াও এতে যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

উদ্যোগটির অংশ হিসেবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্রান্সের কৌশলগত বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমান কোনো অংশীদার দেশের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা হতে পারে।

ফরাসি উদ্যোগটির সমালোচনা করেছে রাশিয়া। মস্কো এটিকে ‘বেপরোয়া’ এবং রাশিয়ার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টিকারী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সম্প্রতি বলেন, ‘রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি ফরাসি পারমাণবিক সক্ষমতার কোনো ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে সংঘাতের পরিস্থিতিতে তা রুশ হামলার আওতায় আরো সহজে চলে আসতে পারে।’

লাটভিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ তাই ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো, ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা এবং রাশিয়া-ইউরোপ সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।