উপসম্পাদকীয়
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিপর্যয়ের শঙ্কা
বর্তমান পরিস্থিতি কেবল মার্কিন-ইরান সঙ্ঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী একসাথে বন্ধ হলে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি হবে, যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামুদ্রিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে
অস্ত্রের চেয়ে সংলাপের শক্তি বেশি
যখন ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের দু’বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে এই বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দেখতে পাওয়ার কথা, সে সময় এই সঙ্ঘাতের ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সঙ্কেত ছাড়া কিছু নয়। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে; কিন্তু তা না করে একে-অন্যকে উৎখাত করার অভিপ্রায় থেকে শক্তি প্রয়োগের ঘটনা কিছুতেই গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না।
কোথায় দাঁড়িয়ে পররাষ্ট্র কৌশল
বিপ্লব-পরবর্তী এই পরিবর্তনশীল নতুন ভূরাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশ যদি তার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিটি আন্তর্জাতিক শক্তিকে জাতীয় স্বার্থের মানদণ্ডে পরিচালনা করতে পারে, তবেই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই চ্যালেঞ্জকে বাংলাদেশ তার বিকাশমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার অভূতপূর্ব সুযোগে রূপান্তর করতে পারবে।
যে বাংলাদেশ এখনো বাকি
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে কার জন্য হলো না, কাদের জন্য হলো না- সেই প্রশ্ন আসবে। কেউ যদি অভিযুক্ত হন, তাকে দায় বহন করতে হবে। ছাড় পাওয়া যাবে না। জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? কারা এর বিরোধিতা করছেন? এর উত্তর পেতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। সবাই দেখছেন, সবাই জানেন। দায়ীরা পার পেয়ে যাবেন, হিসাবটা অত সহজ নয়।
রাষ্ট্র সংস্কারেই জুলাইয়ের পূর্ণতা
জুলাইয়ের শহীদরা জীবন দেননি, যাতে নতুন একটি গোষ্ঠী একই দফতরে বসে একই সীমাহীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে। তাদের আত্মত্যাগ এমন একটি প্রজাতন্ত্র দাবি করে, যেখানে কোনো প্রধানমন্ত্রী সব প্রতিষ্ঠান দখল করতে পারবেন না, কোনো নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিককে গুম করতে পারবে না, কোনো নির্বাচন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে না এবং কোনো দল আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। বাংলাদেশের এমন সংবিধানের প্রয়োজন নেই, যা জনগণের কাছ থেকে শাসককে রক্ষা করে। আবার এমন বিপ্লবও প্রয়োজন নেই, যা জনগণকে সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। বিচক্ষণ পথ হলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাংবিধানিক ব্যবস্থার মূল চরিত্র বদলে দেয়া। জুলাই দুঃশাসন সরিয়েছে; এখন সংসদকে প্রজাতন্ত্র পূর্ণ করার দায়িত্ব নিতে হবে






