ময়মনসিংহে জাল সনদে শিক্ষকতা

নৈতিকতার চরম অধঃপতন

শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক একটি পেশা কিছু মন্দ লোকের কারণে কলঙ্কিত হতে পারে না। এ খাতসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করতে হবে। যাতে করে জালিয়াতরা শিক্ষাকে কলঙ্কিত করতে না পারে।

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা নীতি-নৈতিকতা শেখে। তাদেরকে সমাজের আদর্শ অনুকরণীয় বলা হয়। সেই শিক্ষকই যখন সনদ জালিয়াতির মতো অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হন, তখন সমাজের জন্য তা মন্দ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। তাই এমন কাজে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নয়া দিগন্তে গতকাল রোববার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের সনদই জাল বলে শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর-ডিআইএ। শুধু জাল সনদই নয়— অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ এবং অনুমোদনহীন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মেরও প্রমাণ মিলছে। তদন্তের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এমদাদুল হক পলাতক রয়েছেন। ডিআইএ সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং’-এ দুই পদ্ধতি ব্যবহার করে। শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা শেষে ১২৮ জন শিক্ষকের সনদ জাল পেয়েছে ডিআইএ।

এর আগে ২০২৪ সালে ১৫৪ জন এবং ২০২৩ সালে ৬৭৮ জন শিক্ষককে জাল সনদের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের ২৫ মে পর্যন্ত মোট এক হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত করা হয়।

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় লক্ষ করা যাচ্ছে। ঘুষ দিয়ে কিংবা ছলচাতুরী করে কিভাবে অনৈতিকভাবে সুবিধা নেয়া যায় তারই যেন প্রতিযোগিতা চলছে দেশে। শিক্ষকের সদন জালিয়াতি তেমনি একটি নজির।

জাল সনদ দিয়ে শিক্ষকতায় প্রবেশ করলেও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সময় সনদের বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করার কথা। আর এ কাজটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অধিদফতর। বিশেষত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর-মাউশি ও ডিআইএ। সনদ জালিয়াতির সাথে তাদের সম্পৃক্ততা থাকলে তাও খুঁজে বের করতে হবে।

শিক্ষকদের জাল সনদ দিয়ে চাকরি বন্ধ করতে সরকারের শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। সনদ যাচাই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে হবে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। শিক্ষকদের এমপিও থেকে শুরু নানা কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর-মাউশি। আর এ প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি ও ভোগান্তির কথা মানুষের অজানা নয়। মাউশির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে যেন কোনো জাল সনদধারী শিক্ষকের এমপিও না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক একটি পেশা কিছু মন্দ লোকের কারণে কলঙ্কিত হতে পারে না। এ খাতসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করতে হবে। যাতে করে জালিয়াতরা শিক্ষাকে কলঙ্কিত করতে না পারে।