নির্বাচন যখন ফাঁদ হয়ে দাঁড়াল

চিরশত্রু পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে এবং ধর্মীয় জোশ তুলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন মোদি। এভাবে আরেকটি স্ট্রাইক করতে গিয়ে বড় আকারে ধরাও খেয়েছেন। অপারেশন সিঁদুর নামে চালানো ওই অ্যাডভেঞ্চারে পরাস্ত হয়ে ভারত তার বৈশ্বিক গুরুত্ব হারিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের শক্তি ক্ষয়ের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারছে না। বিগত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয় হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির। দেশটি তার আকার, আয়তন ও শক্তি অনুযায়ী যতটুকু বৈশ্বিক প্রভাব ও দৃষ্টি পাওয়ার কথা, তার খুব সামান্য এখন পাচ্ছে

ভারতে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার নির্বাচনে দলীয় সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহার আরো জোরদার করেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার পুরো রাষ্ট্রীয় টিম নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছেন। সন্ত্রাস, অর্থপাচার ও ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত ইডি সিবিআই ও এনআইএ এখন রাজ্য বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে, তাদের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইডি হলো ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রকের রাজস্ব বিভাগের একটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। সিবিআই দেশটির শীর্ষ অপরাধ তদন্ত সংস্থা। এনআইএ দেশের ভেতরের সন্ত্রাস দমনে কাজ করে। নির্বাচনের আগে পুরো রাষ্ট্রশক্তিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করা হচ্ছে তখন দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চুপ। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির তীব্র সমালোচনার পরও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো পদক্ষেপ নেই।

মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত নির্বাচনে জিততে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের অনুসরণ করতে শুরু করেছে আরো আগে থেকে। হাসিনা বিনাভোট, নৈশভোট ও আমি-ডামি নির্বাচনের প্রবর্তক। বিশ্ব এর আগে এমন নির্বাচন দেখেনি। এসব নির্বাচন ছিল শতভাগ নিয়ন্ত্রিত ও একতরফা। নির্বাচন কমিশন ছিল তার পুতুল সহযোগী। সেনাবাহিনী-পুলিশসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র তিনি কব্জা করে নিয়েছিলেন। ভারতে মোদির পক্ষে হাসিনার মতো নির্বাচনের নামে তামাশা করার সুযোগ নেই। তবে তিনিও কম যাননি। ২০২৩ সালে তিনি ইডিকে ব্যবহার করে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসির ওপর চড়াও হয়েছিলেন। এটি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তিনি করেননি; করেছিলেন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগ হজম করতে না পেরে। গণতান্ত্রিক ভারতের এ আচরণ বিশ্ববাসীকে অবাক করে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিজের ও দলের স্বার্থ উদ্ধারের একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত ছিল এটি। বিশ্ব-গণতন্ত্র যে বড় ক্ষয় হয়ে গেছে, এটি তার লক্ষণ।

গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির একটি প্রামাণ্যচিত্রের জের ধরে ওই অভিযান চালানো হয়। ‘ইন্ডিয়া : দ্যা মোদি কোয়েশ্চন’ নামে তথ্যচিত্রটি গুজরাট দাঙ্গার জন্য সরাসরি মোদিকে দায়ী করে। তথ্যচিত্রে বলা হয়- গুজরাট দাঙ্গা ছিল হিন্দু চরমপন্থীদের দ্বারা মুসলিমদের হিন্দু এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অভিযান। যেখানে জাতিগত নিধনের (এথনিক ক্লিনজিং) লক্ষণ আছে। তথ্যচিত্রে উঠে আসে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে জঙ্গি হিন্দুদের দাঙ্গায় উৎসাহ দেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের গোপন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়। ২০২৩ সালে এটি সম্প্রচারের পর বিজিপি সরকার ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। বিবিসির বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির ভারতের অফিসে তল্লাশির নামে হামলে পড়ে। তথ্যচিত্রটি দেখার দায়েও সে সময় বিজেপি সরকারের রোষানলে পড়েন অনেকে।

হাসিনার মতো করে না পারলেও মোদির বিজেপি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে।

ভারতের প্রায় সব কর্মকাণ্ডে মনোযোগ নির্বাচন ঘিরে আবর্তিত হয়। নির্বাচন নিয়ে এত হইচই, বাদানুবাদ, হাঙ্গামা অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। হাসিনার নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ একেবারেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিল। হাসিনার দলের ভোটাররাও কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া বন্ধ করেছিল। তাই ভোটারহীন কেন্দ্রে কুকুরের আনাগোনা ভাইরাল হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে এমন হয়নি। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কিছুটা কব্জা করলেও এখনো সেখানে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি আছে। পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশ ভোটার রেকর্ড হয়েছে।

১২ মাসে ১৩ পূজার মতো নির্বাচনও দেশটিতে উৎসব। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে পুরো ভারত এবার সরগরম। কোন দল জয় পাবে তা নিয়ে কয়েক ডজন জরিপ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কয়েক সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গে এসে বসে আছেন। নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেখানে দু’টি নির্বাচন হয়। একটি বিধানসভা ও অন্যটি জাতীয় লোকসভা নির্বাচন। এভাবে দেশটির ২৮টি অঙ্গরাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রতি ছয় বছরে একবার রাজ্যসভা নির্বাচন হয়। একেকটি নির্বাচন কয়েক দফায় হয়। আবার সেগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয় আরেকটি নির্ধারিত দিনে। হিসাব করলে বিশাল ভারতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নির্বাচনী ব্যস্ততা রয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের প্রতিদিন কোনো না কোনো নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়।

গুজরাটে জয় পাওয়ার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি ভোটের রাজনীতির সবচেয়ে বড় স্টার। যেখানে নির্বাচন সেখানে তিনি উপস্থিত হচ্ছেন। ভোটের রাজনীতি নিয়ে তার যতটা ব্যস্ততা অন্য কোনো দেশের সরকারপ্রধানদের এমনটি কল্পনাও করা যায় না। এমনটি করতে গেলে বহু দেশ আছে যাদের প্রশাসন মুখ থুবড়ে পড়বে। বিশেষ করে চীন রাশিয়াসহ বড় দেশের নেতাদের তাদের সরকার পরিচালনা ও বিশ্ব কূটনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদি শুধু পশ্চিমবঙ্গে ২৩ জনসভায় উপস্থিত হন। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর একটি। সে জন্য তাকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশসহ বড় রাজ্যগুলোতে বাস্তবে মোদিকে আরো অনেক বেশি জনসভায় হাজির হতে হয়েছে। শুধু নির্বাচনী জনসভা নয়; আরো বহু কাজ আছে নির্বাচন ঘিরে। প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার পরিকল্পনা, অর্থসংগ্রহ, দলের লোকদের পরিচালনা- সবই শীর্ষনেতাকে করতে হয়। নির্বাচনে জেতার জন্য এমন কোনো কাজ নেই ভারেতর বড় দলগুলো করে না। এ জন্য তারা প্রতিবেশী দেশের সাথে যুদ্ধও লাগিয়ে দিতে পারে। চিরশত্রু পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে এবং ধর্মীয় জোশ তুলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন মোদি। এভাবে আরেকটি স্ট্রাইক করতে গিয়ে বড় আকারে ধরাও খেয়েছেন। অপারেশন সিঁদুর নামে চালানো ওই অ্যাডভেঞ্চারে পরাস্ত হয়ে ভারত তার বৈশ্বিক গুরুত্ব হারিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের শক্তি ক্ষয়ের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারছে না। বিগত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয় হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির। দেশটি তার আকার, আয়তন ও শক্তি অনুযায়ী যতটুকু বৈশ্বিক প্রভাব ও দৃষ্টি পাওয়ার কথা, তার খুব সামান্য এখন পাচ্ছে।

বাংলাদেশে হাইকমিশনার নিয়োগে নতুন এক্সপেরিমেন্ট
গতানুগতিক ধারা ছেদ করে এবার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ভারত বাংলাদেশে তার হাইকমিশনার নিযুক্ত করতে যাচ্ছে। এতদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছে নয়াদিল্লি। কূটনীতিকদের অনেকে নিজেদের কাজের আওতার বাইরে গিয়েও প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়েছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সময়ে তারা একেকজন লাট সাহেব হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাদেশের সরকারের আমলা-মন্ত্রীরা তাদের সামনে অধোমুখে হাজির হতেন। তাদের খুশি করার জন্য রাজনীতিক ও আমলাদের রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে দেখা গেছে। হাসিনার চেয়ে ক্ষেত্রবিশেষে তাদের বেশি শক্তিধর মনে হয়েছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলার নামে তার নিজ এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ করে বসেন। সেখানে শ্রিংলার ম্যুরাল বসিয়ে নামফলক সেঁটে দেয়া হয়। ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের আগে শ্রীংলার নামে সড়কের নামকরণের উদ্দেশ্য- সংসদে আসন বাগিয়ে নেয়া। ওই সময়ে আরো অনেকে নানাভাবে হাইকমিশনে দেনদরবার করেছেন। অনেকে বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার কাছে ভারতে গিয়ে ধর্ণা দিয়েছেন। ঘুষ দেয়ার খবর তখন পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে ভারত আসলে কোন ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখে- সেটিই মোটাদাগে নগ্নভাবে বেরিয়ে আসে। ছলেবলে বাংলাদেশে প্রভাব তৈরির যে দৃষ্টিকটু চেষ্টা ভারত চালিয়েছে, এগুলো তার কদর্য প্রকাশ।

হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব শূন্যে নেমে যায়। স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতকে বড় ধরনের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ভারতের জন্য এটি ছিল একটি কূটনৈতিক বিপর্যয়। কূটনীতি একটি উচ্চতর সূক্ষ্ম মানবিক শিল্প। দুই দেশের মধ্যে সম্মান, মান-মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে বড় দাগে এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছে ভারত। এবার কি দেশটি সাবধান হলো? সে জন্যই কি এক ব্যতিক্রমী বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার নিয়োগ করতে যাচ্ছে দিল্লি?

পেশাদার কূটনীতিক না হলেও দিনেশ ত্রিবেদী বহুমুখী বিচিত্র অভিজ্ঞতার অধিকারী। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে দেশটিতে বেসরকারি একটি ফার্মে দুই বছর চাকরি করেন। তার আগে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন, অভিনেতা হওয়ার জন্য নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। শেষে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে পেশাদার রাজনীতিক হিসেবে। ভারতীয় রাজনীতির প্রায় সব উচ্চপর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একবার রেলমন্ত্রী আরেকবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। হাইকমিশনারের পদটি এর অনেক নিচে। প্রণয় ভার্মা পদোন্নতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের দূত নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন। এর আগে বাংলাওদেশে নিযুক্ত হওয়া কোনো হাইকমিশনারই এত বড় পদমর্যাদার ছিলেন না। এমনকি বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালনের পর সর্বোচ্চ পররাষ্ট্র সচিব হয়েছিলেন সুবিমল মিত্র। এর চেয়ে বড় পদ অন্য কেউ পাননি। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা উচ্চকক্ষক রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ত্রিবেদীর জন্য এটি পদাবনতি না একজন দক্ষ রাজনীতিকের জন্য এটি একটি স্পেশাল এসাইনমেন্ট- সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পাকিস্তান থেকে ভারতের গুজরাটে আসা এক হিন্দু দম্পতির সন্তান ত্রিবেদী; কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবন কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য থেকে তিনি উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা এবং নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেস দিয়ে। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একজন প্রবীণ রাজনীতিকের হাইকমিশনার নিয়োগ দিল্লির এযাবৎকালের চিন্তাভাবনার বাইরে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাইরে এই ধরনের ব্যতিক্রমী নিয়োগ সাধারণত দেয় না।

ভারতের কূটনীতিকরা আগ্রহী এ দেশে নিয়োগ পেতে। এর কারণ নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনতার চর্চা ও বিশেষ মর্যাদা। অনেকে হয়ে ওঠেন বিশেষ ক্ষমতাধর। হাসিনার শাসনে ক্রমাগত তাদের দাপট বেড়েছে। আবার এরা একেকজন হয়ে ওঠেন হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ঘোরতর সমর্থক। অবসর নেয়ার পর তারা হাসিনার পক্ষে মিডিয়ায় সবসময় সরব থাকেন। এদের অনেকে এখন হাসিনার পক্ষে বলে যাচ্ছেন। পঙ্কজ সরণ ও বীণা সিক্রির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্টো চিত্র। এরা অনেকটা ভারতের পক্ষের মানুষ হয়ে যান। স্পষ্ট করে বলার শক্তি তাদের কমতে থাকে। কেউ কেউ একেবারে হিন্দুত্ববাদের সমর্থক বনে যেতে চান। কলকাতা মিশনে নিয়োগ পাওয়া এক বাংলাদেশী কূটনীতিক কোরবানি দেয়া নিষিদ্ধ করে দেন। মিশনে যোগদানের আগেই এই আদেশ কার্যকর করে দেন তিনি। পরে তার নিয়োগ পরিবর্তন করা হয়, তার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

ভারতের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি এ উদ্যোগ নেন। অথচ ৩০ বছর ধরে এই মিশনে কোরবানি হয়। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সেই গোশত বিতরণ করার রেওয়াজও আছে। এ ধরনের ব্যক্তিদেরও আমরা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের মধ্যে দেখতে পচ্ছি। যারা একটু সুবিধার জন্য বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করতেও প্রস্তুত হয়ে যান।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]