বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি কেবল নয়; এটি এমন এক ভূ-খণ্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা ক্রমশ স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ একদিকে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে নিয়োজিত, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপের জটিল ভারসাম্য রক্ষার এক অবিরাম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই ভারসাম্য কোনো স্থির বা এককালীন অবস্থান নয়; বরং একটি গতিশীল রাজনৈতিক কৌশল, যার প্রতিটি সিদ্ধান্তের সাথে জড়িয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাস।
১. নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা : কেন বাংলাদেশ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (Global Supply Chain) সংযোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব গত এক দশকে বহুগুণ বেড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান এবং সাহায্যনির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানের এক ট্রিলিয়ন ডলারের (পিপিপি) অর্থনীতির পথে ধাবমান দেশটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজার। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিভিন্ন শক্তি বাংলাদেশকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছে। চীনের কাছে বাংলাদেশ একটি অপরিহার্য ‘কানেক্টিভিটি হাব’ ও বাণিজ্য করিডোর, যা তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর বিস্তৃত কাঠামোর অন্যতম মেরুদণ্ড। কারণ, বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিকল্প হিসেবে বঙ্গোপসাগর থেকে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মালভূমি পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপনের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা ‘নোড’। তাদের কাছে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বাইরে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (IPS) সফলতার জন্য বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশ অপরিহার্য। আবার আঞ্চলিক শক্তি ভারতের কাছে বাংলাদেশ একটি ‘ভারসাম্য নির্ধারণকারী’ রাষ্ট্র। উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ঢাকা হচ্ছে দিল্লির প্রধান কৌশলগত মিত্র। এই বহুমাত্রিক গুরুত্বের ফলে বাংলাদেশ এখন কেবল নীতি গ্রহণকারী রাষ্ট্র নয়; বরং ক্রমশ একটি ‘নীতি প্রভাবক’ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হচ্ছে।
২. চীনের ছায়া : উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত নির্ভরতা
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোর তালিকার দিকে তাকালে চীনের সরব উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পদ্মা বহুমুখী সেতু (কারিগরি ও অবকাঠামো), কর্ণফুলী টানেল, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অসংখ্য রেল ও সড়ক যোগাযোগ প্রকল্পে চীনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়নচিত্রকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই সম্পর্কের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এখন অত্যন্ত স্পষ্ট
দ্রুত অবকাঠামো রূপান্তর : পশ্চিমা দেশ বা দাতা সংস্থাগুলোর তুলনায় চীন তুলনামূলক কম শর্তে এবং কম সময়ে বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী রাষ্ট্রের জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও ঋণ : চীনের এই সহযোগিতা প্রধানত ঋণনির্ভর। এটি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করলেও, সমালোচকরা প্রায়শই ‘ডেট ট্র্যাপ’ বা ঋণের ফাঁদ নিয়ে সতর্ক করেন। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ সামনে থাকায় বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের এই ঋণের সুদের হার এবং পরিশোধের মেয়াদ নিয়ে সচেতন থাকতে হচ্ছে। কৌশলগত সম্পৃক্ততা : চীন কেবল নির্মাণকারী নয়; তারা এখন বাংলাদেশের জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতেরও বড় অংশীদার। ফাইভ-জি প্রযুক্তি থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চীনের সরঞ্জামের ব্যাপক ব্যবহার একটি কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি করেছে। চীনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ শুধু একটি উন্নয়ন অংশীদার নয়; বরং মালাক্কা সঙ্কটের বিকল্প হিসেবে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যম। তবে এই সম্পর্কের ছায়ায় কিছু সূক্ষ্ম উদ্বেগও রয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি : নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও বাজার
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে কেবল দ্বিপক্ষীয় হিসেবে দেখে না; বরং একে একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করে। ওয়াশিংটনের কাছে বাংলাদেশের তিনটি প্রধান পরিচয় : ১. বৃহত্তম রফতানি বাজার; ২. নিরাপত্তা অংশীদার এবং ৩. গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার সূচক। অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্য। জিএসপি সুবিধা না থাকলেও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই বাণিজ্যিক নির্ভরতা দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল ভিত্তি দিলেও এটি একাধারে একটি ‘লিভারেজ’ বা চাপের ক্ষেত্রও তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি বা শ্রমনীতি যখন কঠোর হয়, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায়। নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেক বেশি নীতি-চালিত। গত কয়েক বছরে মানবাধিকার, নির্বাচন এবং শ্রম অধিকার ইস্যুতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা কড়া বার্তাগুলো ঢাকার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে একই সময়ে সন্ত্রাস দমন এবং বঙ্গোপসাগরের সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য স্পষ্ট- তারা চায় না বাংলাদেশ চীনের প্রভাব-বলয়ে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাক। তাই তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রাখতে সচেষ্ট।
৪. বাংলাদেশের মূলমন্ত্র : ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’
স্বাধীনতা-উত্তর আদর্শিক পররাষ্ট্রনীতিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তববাদী ভারসাম্যমূলক কূটনীতি বলা যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে যোগ না দিয়ে প্রতিটি শক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, কোনো পক্ষ বাংলাদেশকে সেভাবে নির্ভরযোগ্য মিত্র ভাবছে না। এই কূটনীতির তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে : ১. চীনের সাথে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব : সস্তায় পণ্য, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত ঋণের জন্য চীনের বিকল্প নেই। ২. যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা : তৈরী পোশাকের বাজার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার (যেমন- আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক) সমর্থন পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক রাখা অপরিহার্য। ৩. ভারতের সাথে কৌশলগত স্থিতিশীলতা : ভারতের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা, গঙ্গার পানিবণ্টন এবং কানেক্টিভিটির মাধ্যমে নেপাল ও ভুটানের বাজারে প্রবেশের সুযোগ রাখা বাংলাদেশের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা। এই ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন একটি শিল্প। কারণ চীন যখন দেখে বাংলাদেশ ভারতের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তখন তারা বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়। আবার যুক্তরাষ্ট্র যখন দেখে বাংলাদেশ চীনের মেগা প্রকল্পের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে, তখন তারা গণতন্ত্রের প্রশ্ন তুলে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এখন অনেকটা ‘সরু সুতোর ওপর হাঁটার’ মতো।
৫. ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ও ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’
২০২৩ সালে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক’ প্রকাশ করে। এটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ চাল। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS) নিয়ে চাপ দিচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ তার নিজস্ব রূপরেখা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এ অঞ্চলকে একটি সামরিক সঙ্ঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে নয়; বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায়। চীন মনে করে ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণা তাদের ঘিরে ফেলার পশ্চিমা কৌশল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একে নৌপথের স্বাধীনতা হিসেবে প্রচার করে। বাংলাদেশ এখানে ‘Strategic Ambiguity’ বা কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে। অর্থাৎ- তারা কোনো সামরিক জোটে নেই; কিন্তু মুক্ত নৌ-চলাচলের ধারণা সমর্থন করে। এই অস্পষ্টতা বাংলাদেশকে একই সাথে চীনের বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
৬. ঝুঁকির দিগন্ত ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
ভারসাম্যের এই রাজনীতি সফল মনে হলেও এর সামনে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ঘনীভূত হচ্ছে : ঋণের চাপ : চীন বা রাশিয়ার মতো দেশ থেকে নেয়া উচ্চ সুদের ঋণ ভবিষ্যতে রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্যিক ঋণের হার আরো বেড়ে যাবে। মেরুকরণ : চীন ও রাশিয়ার মিত্রতা এবং পশ্চিমের সাথে তাদের বিরোধের ফলে বাংলাদেশ কোনো এক সময় ‘সিলেকশন ট্র্যাপ’-এ পড়তে পারে। অর্থাৎ- কোনো একটি ইস্যু নিয়ে কোনো এক পক্ষকে সমর্থন দিতে বাধ্য হতে পারে। আঞ্চলিক অস্থিরতা : মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের নিরপত্তা ঝুঁকি। আরসা বা টিটিপির মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের সক্রিয়তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে, যার নেপথ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা চাল থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
উপসংহার : ভারসাম্যের ভবিষ্যৎ কি টেকসই?
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এখন একটি স্থির সমীকরণ নয়; বরং এটি একটি ‘আনলিমিটেড ইকুয়েশন’ যেখানে ধ্রুবকগুলো প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন; কিন্তু ভূ-রাজনীতি অনেক সময় উন্নয়নের চেয়েও ক্ষমতার সমীকরণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। পরিশেষে বলা যায়, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে? এর উত্তর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর। একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত এবং স্বচ্ছ গণতন্ত্রই পারে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) রক্ষা করতে। যদি বাংলাদেশ কোনো একদিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ে, তবে অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। আগামী দশকের কূটনীতি কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং তার কৌশলগত সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। এই বৈশ্বিক দাবার বোর্ডে বাংলাদেশ কতটা নিপুণভাবে তার চালগুলো দিতে পারছে, তার ওপরই নির্ভর করছে ১৬ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



