কাঁচাবাজারে যুদ্ধের আগুন

অনিশ্চয়তা বাড়ছে

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ক্রমে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এতে সরাসরি বিপাকে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে— এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জনজীবনে। সরকার নানা পদক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের রেশনিং করার কারণে মজুদদারি বেড়ে গেছে। অনেকে বাড়তি তেল জমা করতে শুরু করেছে।

পণ্যবাহী পরিবহন প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছে না। তেলের অভাবে অনেক পরিবহন বন্ধ থাকছে। চালু পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। এতে পণ্য পরিবহনে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটছে। স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বাজারে। রাজধানীর বাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। বাড়ছে সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম। ভোজ্যতেল, গোশত, দেশী মুরগি এবং সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম এর মধ্যে বেড়ে গেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বা চক্র। ভোজ্যতেল নিয়ে এ মুহূর্তে সিন্ডিকেটের কারসাজি দেখা যাচ্ছে। বাজারে ভোজ্যতেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নেই। খাবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খোলা সয়াবিনের দাম এক সপ্তাহে লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে খোলা পামতেলের দামও।

মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং এটি এক বৈশ্বিক প্রবণতা। এতে শুধু ক্রেতাসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার ভয়ে ক্রেতারা কেনাকাটা কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রিবাট্টা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

উৎপাদক ও খামারিরা বলছেন, উৎপাদনে তেমন ঘাটতি নেই। তবু যে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে, তার কারণ জ্বালানির সাথে সংশ্লিষ্ট। চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের ব্যবধানে বিশ্বে খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বের নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় দেশে দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেলের সঙ্কট। সেই সঙ্কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যবাজারে।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অনেকটাই বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, বর্তমানে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম পড়বে এক হাজার ৭২৮ টাকা। পাশাপাশি ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮০ টাকা। পণ্যমূল্যে এরও প্রভাব অনিবার্য।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ক্রমে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এতে সরাসরি বিপাকে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে— এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে আগামী দিনগুলোতে জনজীবন কতটা স্বস্তিকর থাকবে তা নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং আমাদের সরকার কতটা সক্ষমতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে তার ওপর।