ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-চাঁদাবাজি

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা, গুলি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়ছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে নয়া দিগন্ত। এতে ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজির কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়। টঙ্গীর সাতাশ এলাকায় শিল্পপতি মো: কামরুজ্জামানের অফিসে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি চালানো কিংবা গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায় নিয়ে সংঘর্ষের মতো ঘটনার পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয়তার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

টঙ্গীর ঘটনায় দেখা যায়, শিল্পপতি কামরুজ্জামানের অফিসে পরিকল্পিতভাবে এসে অস্ত্রধারীরা গুলি চালায় ও ককটেল নিক্ষেপ করে। সৌভাগ্যবশত প্রাণহানি না ঘটলেও এ ধরনের হামলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, গোটা ব্যবসায়ী সমাজকে আতঙ্কিত করে। একইভাবে উত্তরা ও চট্টগ্রামের ঘটনাগুলোও দেখাচ্ছে— সশস্ত্র চক্রগুলো এখন প্রকাশ্যেই ভয় দেখিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে, এই ঘটনাগুলোর পেছনে চাঁদাবাজি, ব্যবসায় দখল কিংবা ঝুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণের মতো অর্থনৈতিক স্বার্থ বড় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে কিছু পুরনো সন্ত্রাসী চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেউ বিদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে, আবার কেউ স্থানীয়ভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে অপরাধের এক নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে গাজীপুরের ঝুট ব্যবসায়কে ঘিরে যে সংঘর্ষের তথ্য সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। এখানে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে একাধিক পক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিল্পকারখানা ও উৎপাদনমুখী খাত যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বিচ্ছিন্ন গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অর্থের উৎস, তাদের সংগঠিত নেটওয়ার্ক এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে শনাক্ত করে ভেঙে ফেলা জরুরি। একই সাথে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান এবং চাঁদাবাজি দমনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা বহুলাংশে নির্ভর করে একটি নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর। যদি ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা নিজেদের জীবন ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়বে। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ, যাতে কোনো সন্ত্রাসী চক্রই রাষ্ট্রের আইনকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস না পায়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো— ব্যবসায় ও উৎপাদনের পরিবেশকে নিরাপদ রাখা। আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থানের যে আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, তা দ্রুত ও কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে এর পরিণতি অর্থনীতি ও সমাজ— উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে। এখনই সময় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার।