নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের ১০ সদস্যের কমিটির মূল প্রতিবেদনটি ৩১৮ পৃষ্ঠার, যাতে রয়েছে ১৭টি অধ্যায়। সমাজের বিভিন্ন জায়গায় নারীর অবস্থান, প্রতিবন্ধকতা, করণীয়, বর্জনীয়, কর্মসূচি, আকাক্সক্ষা, প্রত্যাশা ইত্যাকার বিষয় রিপোর্টে উঠে এসেছে। হাওর, চরাঞ্চল, চা-শ্রমিক বন্যাকবলিত এলাকার নারী; ক্রীড়া, গণমাধ্যম, জনপ্রশাসনে নিযুক্ত নারীরা; সেই সাথে অভিবাসী নারীদের অধিকারও তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই প্রসঙ্গ বিভিন্ন অধ্যায়ের কয়েকটি জায়গায় পুনরাবৃত্তি করা হলেও পুরো রিপোর্টে নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা কিশোরী মেয়েদের কোনো প্রসঙ্গ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আমরা জানি, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কিশোররা পথে ঘাটে নেশা করে বেড়ায়, রাস্তায় কাটে এদের জীবন, জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধে। তেমনি পিছিয়ে নেই রাস্তার কিশোরীরা। অপরাধ জগতের সাথে জড়িত এসব শিশু মেয়েদের পেছনের কাহিনী অনেক করুণ। কখনো দারিদ্র্য কিংবা বিচ্ছিন্ন পরিবার থেকে উঠে আসা, কখনো ফুটপাথে কিংবা বস্তি বা ডাস্টবিনে এসব কিশোরী পলিথিন মুখে দিয়ে নেশা করে, আরো কিছু কিশোরের সাথে ঘুরে বেড়ায়, একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এক নিরাপত্তাহীন জীবন। তবে, নারীদের নিয়ে এত কথা উঠে এলেও এই অসহায় কিশোরীদের উদ্দেশ্যে এলাকাভিত্তিক কিংবা যেসব এলাকায় এমন কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে তাদের নিরাপত্তা, সুশিক্ষা কিংবা চিকিৎসার কথা উঠে আসেনি।
রিপোর্টের একাধিক জায়গায় নারীদের পিছিয়ে পড়া কিংবা প্রতিবন্ধকতার জন্য ধর্মপ্রথা ও আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে সত্য হলো- ধর্মীয় বিষয়াবলির ভুল ব্যাখ্যা, ভণ্ডামি, কিংবা ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা- এগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের জীবনকেই ধ্বংস করে। তবে, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ‘ধর্মপ্রথা’ শব্দ উল্লেখ করে নেতিবাচক অর্থে আমরা ধর্মকে প্রচার ও বিচার করতে পারি না। কমিশন সদস্যদের বক্তব্যে মনে হলো তারা জীবন থেকে ধর্মকে বাদ দিতে চাচ্ছেন। সংবিধানে ধর্মীয় নিয়মবহির্ভূত আইনের অন্তর্ভুক্তি করে সেটিকে স্বাধীনতার নাম দিতে চাচ্ছেন। যদিও এটি স্বাধীনতা নয়, মূর্খতা! সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল মাত্র।
দোষ দেয়া হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতিকে। হ্যাঁ, আমাদের সংস্কৃতিতে নারী-পুরুষ উভয়ের ধূমপানই অশোভনীয়। প্রবীণদের মনে আছে- এক সময় আমাদের সমাজে ছেলেরা ধূমপান করলে পাশ দিয়ে কোনো মুরুব্বি দেখলে হাতের সিগারেটটা লুকিয়ে ফেলত। আর নারীদের ধূমপান করাটাও স্বাভাবিকভাবে নেতিবাচক হিসেবেই ধরা হয়। সে ক্ষেত্রে ১৫ অধ্যায়ে ‘নারীরা ধূমপান করে না’ গণমাধ্যমে এমন উপস্থাপনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কেন? এমন কথা কি আমাদের সুন্দর সংস্কৃতি চর্চার বিপরীতে একটি বদভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে না?
লক্ষণীয়, কিছু অধ্যায়ের সাবটাইটেল বা স্লোগান খুবই আপত্তিকর, হিংসাত্মক ও মারমুখী। যেমন- ‘পুরুষের ক্ষমতা ভেঙে গড়ো সমতা’, নারী নির্যাতন রুখব সবে, হাত আছে হাতিয়ার হবে’, ‘সব বাধা ভাঙব, সম-অধিকার আনব’, ‘শরীর আমার সিদ্ধান্ত আমার’- এসব শিরোনামের উদ্দেশ্য কী? পুরুষকে নারীদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা? শরীর আমার বলে কি প্রকাশ্যে উলঙ্গ হতে চাওয়া? মূলত নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্ব›দ্বী নয়।
এদিকে, রিপোর্টের অনেক জায়গায় কিছু বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়নি। যেমন- তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৬ পৃষ্ঠায় সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে মা-বাবার নাম প্রদানে অনিচ্ছুক বা অসমর্থ থাকলে আইনগত অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এখানে কিন্তু একটি অবৈধতার গন্ধ আসছে। কারণ, কোন পরিস্থিতিতে মা সন্তানের বাবাকে পরিচয় করাতে অনিচ্ছুক হয়?
একই অধ্যায়ে এমনকি ১২ নং অধ্যায়েও যৌনকর্মীদের কর্মকে পেশা হিসেবে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এটি তো সম্পূর্ণই নারী অধিকারের বিরুদ্ধে যায়! যৌনপল্লীর প্রত্যেক নারীর জীবনের একটি দুঃখজনক কাহিনী রয়েছে। শখ করে কি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের নারী নিজের দেহ দিয়ে ব্যবসায় করতে পারে? এই পল্লøীতে থাকা নারীরাই যখন প্রৌঢ় অবস্থায় উপনীত হয়, তাদের শরীরের চাহিদা কমে না, বিভিন্ন রোগে শোকে মুহ্যমান থাকে তখন ওদের আফসোসের বাকি থাকে না। সুতরাং, যে কাজটি এমনিতেই অসম্মানজনক, প্রতিনিয়ত যেখানে নারীরা শারীরিক, মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে; সেখানে এই অনৈতিক কাজকে বন্ধ করা কিংবা যারা জড়িত রয়েছেন তাদেরকে সচেতন করা, সুশিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসচেতনতার পথ দেখিয়ে সুন্দর জীবনের দিকে নিয়ে আসা তো দূরে থাক, তাদের কর্মকে পেশার স্বীকৃতি দিলে সমাজে নারীর সম্মান তো থাকবেই না; বরং নারীর ইজ্জত ধ্বংসের পাশাপাশি সমাজও ধ্বংস হবে।
রিপোর্টে উঠে এসেছে- ম্যারিটাল রেপ প্রসঙ্গ। তবে কখন, কিভাবে, কোন পরিস্থিতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের যৌনতাকে ধর্ষণ বলা হবে, সেটি উল্লেখ করা হয়নি। দেখুন, বৈবাহিক সম্পর্কে হুট করে কিছু বলা যায় না, আইনও করা যায় না। অন্যথায় অসাধু স্ত্রীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আইনের অবৈধ সুবিধা নেবে। জৈবিক সম্পর্কে স্বামী ও স্ত্রীভেদে একেকজনের চাহিদা একেক রকম। ইসলামে স্বামীর চাহিদায় যেমন স্ত্রীকে সাড়া দেয়ার কথা বলা হয়েছে, তেমনি স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণের প্রতিও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, স্বামীকে উত্তম আচরণের সার্টিফিকেট দেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে। সুতরাং বৈবাহিক সম্পর্কের পারস্পরিক বোঝাপড়ার এমন শিক্ষাকে যেখানে আমাদের হাইলাইট করতে হবে সেখানে পরিসংখ্যান দেখিয়ে স্বামীকে ধর্ষক ও নারী নির্যাতনের মূল আসামি বানানো হচ্ছে! তবে, আমাদের কথা বলতে হবে বিকৃত যৌনাচার নিয়ে, স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে নয়। কারণ বিকৃত যৌনাচার হলো যৌন সম্পর্কে নিজের স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ উপভোগ করা- যেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। আর যখন যৌন ইস্যু তোলা হয়েছেই তাহলে বলব- স্বামী কর্তৃক ধর্ষণের চেয়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে অবৈধ যৌনাচার ও পরকীয়া। যেটি অধিকাংশ সংসারে নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছে, অধিকার হরণ হচ্ছে। অথচ এই ইস্যুগুলো নিয়ে কিছুই বলা হচ্ছে না।
লক্ষ করুন, এই রিপোর্টে বিয়েকে সহজ করার কথা তো উঠেইনি; বরং জায়গায় জায়গায় বিয়ে বিচ্ছেদ ও সেটিকে আর্থিক প্রলোভনের আড়ালে সহজের প্রসঙ্গ উঠেছে। রিপোর্টে বিয়ে বিচ্ছেদের মামলা দায়েরের এক বছরের মাথায় মোহরানার ৫০ শতাংশ পরিশোধের প্রসঙ্গ উঠেছে। বিচ্ছেদের মামলার পরে কেন, যদি আমরা সত্যিকার নারী অধিকার সচেতন হয়ে থাকি তাহলে কাবিনের পরেই কেন মোহরানা পরিশোধ করা হবে না? বিয়ের সময় মোহরানা হচ্ছে স্বামীর দিক থেকে স্ত্রীর জন্য একটি গিফট- এটি ইসলাম প্রদত্ত নারীর অধিকার। এ নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। ইচ্ছা করে মোহরানা আটকে রাখা কিংবা না দেয়া কিংবা মাফ চেয়ে নেয়ার মানসিকতা যাতে স্বামীর মনে না জন্মায়, স্ত্রীকে অধিকার বঞ্চিত করার মনমানসিকতা যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছেলে পক্ষের ওপরও সাধ্যের অতীত মোহরানা যাতে দাবি না করা হয়, সমাজে সেদিকে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
রিপোর্টে নারীদের উত্তরাধিকার আদায়ে একটি সিভিল আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। যেখানে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে নারী পুরুষের ভাগ সমান হবে- যেটি ইসলামী আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। দেখুন, আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনি ভালো করে জানেন কোনটি আমাদের জন্য ভালো। তাই প্রথমেই বলব- আল্লাহর আইনকে নারীদের জন্য অবিচার মনে করাটাই পাপ। ইসলামে নারীদের ওপর আর্থিক দায় দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়নি, যেমনটি পুরুষদের তাদের স্ত্রী, সন্তানদের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর সেই হিসাবে ছেলে সম্পত্তিতে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ পাবে। আর আমরা জানি, একটি মেয়ে তার বাবা ও স্বামীর সম্পত্তি থেকে পাওয়ার অধিকার রাখে। সুতরাং, যেখানে এই অধিকারটুকুই মানা হচ্ছে না, মেয়েদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সেখানে কিভাবে একটি সিভিল আইন শান্তি আনতে পারে? বরঞ্চ লক্ষ করুন, কমিটির নারীরা যেখানে সিভিল আইনের কথা বলছে- তাহলে প্রশ্ন হলো একই পরিবারে যদি ছেলে ধর্মীয় আইন মেনে উত্তরাধিকারের ভাগ চায় আর মেয়ে সিভিল আইন মানতে চায় তাহলে সেই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয়া হবে?
আবার বিভিন্ন অধ্যায়ে বাল্যবিয়ে, বহুবিয়ে প্রতিরোধের কথা উঠেছে। যদিও আমাদের দেশে আইন তো আছেই যে ১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে নয়, তাহলে নতুন করে বলার যুক্তি কী? যদিও আমরা জানি অনেক মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ১৮-এর আগেই বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়; বর্তমানে ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেনের মেয়েরা প্রেম, বৈবাহিক সম্পর্ক, যৌনতা- ইত্যাকার বিষয়ে এতটাই পরিপক্ব যা নিয়ে বলার আর কিছু অপেক্ষা রাখে না। সমাজের আনাচে-কানাচে ১৮ বছরের নিচে ছেলে-মেয়েরা সজ্ঞানে অবৈধ সম্পর্কে জড়াচ্ছে, নিজের সতীত্ব বিলিয়ে দিচ্ছে। কই এসব বন্ধে তো কোনো আইন হয় না? কেন সংস্কারের কথা আসে না?
রিপোর্টে নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি যথাক্রমে ছয় মাস (সরকারি প্রতিষ্ঠানে) ও চার মাস (বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে), আর পিতৃত্বকালীন ছুটি দুই সপ্তাহের নিয়ম ঠিকমতো পালনে জোর দেয়া হয়েছে ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিবা শিশুকেন্দ্র স্থাপন করার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য শুধু একটিই। নারীরা যাতে আরো অধিক হারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে আসে (কারণ তাদের দৃষ্টিতে ঘরের কাজ নারীর জন্য অসম্মানজনক!)। তা নারীদের চাকরির কথা যেহেতু উঠেছে তাহলে কেন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নারীবান্ধব করা হয় না? পার্টটাইমের ব্যবস্থা কেন করা হয় না? যাতে নারীরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে কর্মস্থলে থাকতে পারে। আমরা এমন অনেক নারীর ব্যাপারে জানি যারা বাধ্য হয়ে কাজে ঢুকে। কারো স্বামী মৃত কিংবা নেশাগ্রস্ত, কেউবা দায়িত্বহীন- ইত্যাকার অনেক পরিবারে অনেক সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া অনেক নারীই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী হালাল উপার্জনের পথ খোঁজে। সুতরাং, নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে আসতে পারে সেই বিবেচনায় পার্টটাইমের একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়। সেই সাথে ধর্মীয় অনুভূতির কথা চিন্তা করে জোর করে নারীদেরকে ড্রেস কোডের নামে যাতে ছেলের মতো কিংবা অশালীন পোশাক পরতে বাধ্য করা না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখা উচিত।
আবার দেখুন, রিপোর্টের অধ্যায় ৭-এর পাশাপাশি অন্য অধ্যায়েও জনপ্রশাসনে তথা সংসদে নারীর উপস্থিতির প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। যদিও আমরা বিগত সরকারের আমলে-সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী সিটের অপব্যবহার দেখেছি। কিভাবে অযোগ্য নারী সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদকে গানের আসর বানিয়ে রেখেছিলেন। আরো বলতে হয়- ৫০টি আসন যেখানে সংরক্ষিত আছেই সেখানে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে আরো সিট বৃদ্ধি করে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে, সংসদে জোর করে ঢুকানোর উদ্দেশ্য কী? এটি নারীর ক্ষমতায়ন নয়; বরং নারীকে সবার সামনে হাসির পাত্র হিসেবে প্রকাশ করা। মোট কথা হলো- সংরক্ষিত আসন কেন; বরং নারী নিজ যোগ্যতায় প্রতিটি আসনে পুরুষের সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে এগোবে, এমনটিই তো হওয়া উচিত ছিল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নারীর অংশগ্রহণকে সমর্থন না করে তাহলে সেই দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ও আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। এবার তাহলে অবস্থা কী দাঁড়াল? ওমুক রাজনৈতিক দল এবার শুধু সাইনবোর্ড হিসেবে বাধ্য হয়ে কিছু নারীর মনোনয়নপত্র নেয়ার জন্য দাঁড় করাবে আর পেছনে কলকাঠি নাড়বে নেতারা। সুতরাং, এভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হয় না। আর নারী কমিশন রিপোর্টের উদ্দেশ্য কি যোগ্য নেতৃত্ব, সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা নাকি শুধু নারীদেরকে রাজনীতির ময়দানে ঢুকানো?
সুতরাং, যে রিপোর্ট ধর্মকে প্রতিবন্ধক চিহ্নিত করে; ঘরে-বাইরে, সামাজিক বন্ধনে, পতিতালয়ে, রাজনীতি কিংবা গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রীড়ার ময়দানে শুধুমাত্র নারীর সংখ্যাধিক্য দেখতে চায় সেটি কোনোভাবেই নারীর অধিকারের সাথে যায় না। তাই, প্রস্তাবিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনটি বর্জনীয়।



