জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়ে সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের প্রস্তুতি ও মহড়া অবাক করে দেয়ার মতো। তারা এ সময় অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে রীতিমতো একটি সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করে। একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর এভাবে সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর শক্তির উৎস নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও শঙ্কা জাগা স্বাভাবিক। কোনো শক্তিশালী পক্ষের কাছ থেকে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা ইন্ধন পাচ্ছে কি না তাও আমলে নিতে হবে।
গত ২৪ মে মধ্যরাতে কয়েকশ’ সন্ত্রাসী উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা র্যাবের ক্যাম্পে হামলা চালায়। তারা এসএমজি ও একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করে। একপর্যায়ে বুলাডোজার দিয়ে ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। তার আগে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের একাধিক স্থানে এক্সেভেটর দিয়ে কেটে দেয়া হয়। এ জন্য তারা দুটো ড্রাম ট্রাকও ব্যবহার করে। ট্রাক দিয়ে কাদামাটি এনে রাস্তায় ফেলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। এ সময় তারা একটি সেতুও ধসিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায়।
র্যাবের নবনির্মিত ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন সামনে রেখে সন্ত্রাসীরা একধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তাদের বিস্তৃত প্রস্তুতি ও তা বাস্তবায়নের বিপুল আয়োজন আমাদের নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এর আগেও সেখানে এক র্যাব সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। তারপরে ৯ মার্চ সেখানে যৌথ বাহিনীর তিন হাজার সদস্য বড় আকারের অভিযান চালান। ২২ সন্ত্রাসী আটকসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের খবর দেয়া হয়। এরপর সেখানে র্যাব ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু মধ্যরাতে এই সমন্বিত হামলার ঘটনাটি প্রমাণ করছে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে বহাল তবিয়তে আছে। সেখানে তাদের অটুট শক্তি ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী আটক যে তাদের কাবু করতে পারেনি সেটিই তারা জানান দিয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তিন হাজার একর এলাকা নিয়ে জঙ্গল সলিমপুর রাষ্ট্রের ভেতর যেন আরেকটি রাষ্ট্র। সরকারি খাস জমিতে বস্তিভাড়া, জমিজমা বিক্রি ও চাঁদাবাজির এক মাফিয়া সম্রাজ্য তারা গড়ে তুলেছে। এর কালো অর্থনীতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পুষ্ট করেছে। সেই সূত্রে এ দুর্গম এলাকার শাসক বনে গেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেন এমন একটি সমান্তরাল প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো রকমের বাধা দেয়া হয়নি। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাকাঠামো এ ব্যাপারে ছিল একেবারে উদাসীন। সরকারি প্রশাসন যখন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে তখন সন্ত্রাসী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের ঔদ্ধত্য এতটা বেড়েছে যে, সরকারি বাহিনীকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে সশস্ত্র হামলা চালাতেও দ্বিধা করছে না।
যৌথ বাহিনীর বড়সড় অভিযানের তিন মাসের মাথায় নতুন করে সন্ত্রাসীরা এতবড় আক্রমণের ঘটনা কিভাবে ঘটাতে পারল, তার কারণ উদঘাটন করতে হবে। এর পেছনে অন্য কোনো শক্তির ইন্ধন আছে কি না তাও নিশ্চিত করে জানতে হবে। এ জন্য সেখানে সরকারের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সেখান থেকে সমূলে উৎপাটন করতে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।



