মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী, কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই

রাজধানী ঢাকায় শীতের শেষে মশার উপদ্রব বেজায় বেড়েছে। কিছু এলাকায় মশার আনাগোনা এতটা বেশি যে, তাতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। ঘরবাড়ি দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোথাও মশা থেকে রেহাই নেই। ড্রয়িং রুমে বসে পারিবাকি আলাপ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং বেচাকেনা কোথাও নিরুপদ্রব থাকার উপায় নেই মশার কামড়ে। মশারি খাটিয়ে তাতে প্রবেশ ছাড়া নিরাপদ হওয়া যাচ্ছে না। এত বেশি মশা সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় দেখা যায়নি। এই সময়ে সিটি করপোরেশনকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় পাওয়া যাচ্ছে। নীরবে মশার উপদ্রব সহ্য করা ছাড়া নগরবাসীর কাছে এখন অন্য কোনো বিকল্প নেই।

কিউলেক্স এডিস ও অ্যানোফিলিস এই তিন ধরনের মশার উপদ্রব হয় ঢাকায়। তবে এ মৌসুমে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে কিউলেক্স মশা। এ মশার কামড়ে গুরুতর রোগে মানুষ আক্রান্ত না হলেও যন্ত্রণা সহ্য করার মতো নয়। এর বিস্তার ঘটেছে অনেক বেশি মাত্রায়। বহুতল ভবনের উপরের তলায় যেখানে মশা সাধারণত পৌঁছে না; সেখানেও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শেষে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সময়টা কিউলেক্সের প্রজননে সহায়ক। আবার স্বল্প সময়ে এই মশা বিপুল বিস্তার ঘটাতে পারে।

কিউলেক্স বিস্তারে ঢাকার পরিবেশ অত্যন্ত সহায়ক। অপরিকল্পিত নগরায়নে প্রায় সবখানে কিছু পরিত্যক্ত স্থান পাওয়া যায়; যেখানে পানি জমে থাকে। এ ছাড়া যত্রতত্র ময়লার ভাগাড় রয়েছে। প্রায় সবখানে অপরিচ্ছন্ন ড্রেন রয়েছে। ঢাকার সব ডোবা নালা ও জলাশয়ে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার, এসব জলাধার অনেকটা পরিত্যক্ত। এগুলো সহজে মশার প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এর কারণ, মালিকেরা এগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না। শহরে এ ধরনের অপরিচ্ছন্ন জায়গা থাকলে মশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ সেখানে নিয়মমাফিক সকাল-বিকাল লার্ভিসাইড প্রয়োগ করতে হয়। এমন একসময় কিউলেক্স মশা অনুকূল পরিবেশ পেল যখন কর্তৃপক্ষ রীতিমতো বেখবর।

সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, মশার উপদ্রব বাড়লেও এ সংক্রান্ত রোগবালাই সেভাবে ছড়াচ্ছে না। তবে যেকোনো সময় মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এডিস মশার বিস্তার এমন উচ্চ মাত্রায় হলে ডেঙ্গুসহ প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আছে ঢাকায়। এডিসের ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সংবাদমাধ্যমকে অচিরে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ মশার আক্রমণে দিশেহারা। যতদূর জানা যায়, মশক নিধনের কাজ করতে হয় অগ্রিম। যেমন কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে শীতের শেষের দিকে সিটি করপোরেশনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন ছিল। সময়মতো সেই অভিযান পরিচালনা করা হলে কিউলেক্স প্রজাতির মশার সীমাহীন বিস্তার হতো না। যাই হোক, নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে হলে মশক নিধনে দ্রুততম সময়ে বড় ধরনের অভিযানে নামতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ ব্যাপারে নতুন সরকার বিশেষ দৃষ্টি দেবে এমন প্রত্যাশা ঢাকাবাসীর।