অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে বইমেলা হলেও এ বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিলম্ব হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ বছর বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। গত বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল এক হাজার ৮৪টি। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেছেন, এবারের মেলা সব সম্ভাবনায় আলোকিত হয়ে প্রাণের বইমেলায় পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি। মেলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
ভাষা আন্দোলনের মাসকে কেন্দ্র করে অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইমেলায় প্রতি বছর শত শত নতুন বই বের হচ্ছে। বইয়ের পাঠক সেভাবে বাড়ছে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজগঠনের জন্য পাঠাভ্যাস বাড়াতে হবে। দেখা যাচ্ছে মানুষ ঝুঁকে পড়ছে ডিভাইসে। বইয়ের পাঠক নিম্নগামী হচ্ছে। পাঠাগার পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে থাকছে। বাড়ি বাড়ি ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরির প্রবণতাও নেই। শহরে বইয়ের পাঠক মোটামুটি কিছুটা থাকলেও মফস্বলে নগণ্য। বইয়ের দোকানে ক্রেতার আনাগোনা কম।
বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। শহর কিংবা গ্রামে দারিদ্র্যের হার কমছে। বেড়েছে শিক্ষার হার। এর সাথে বইয়ের পাঠক না বাড়ার অর্থ হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ অর্জনের জন্য যেটুকু পড়া প্রয়োজন ততটুকুতে সীমিত থাকছে। প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন শেষ হলে বই পড়াও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মানুষের পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ার পেছনে ডিভাইস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো বিষয়গুলো অনেকাংশে দায়ী থাকলেও পাঠাভ্যাস বাড়ানোর জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগ আশানুরূপ নয়; বরং তা হতাশাজনক বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না।
দেশে যেসব পাঠাগার রয়েছে সেগুলোতে পাঠক বাড়াতে কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারি বই ক্রয়ের ক্ষেত্রে এমন সব বই কেনা হয়, পাঠকের কাছে যেগুলোর চাহিদা তুলনামূলক কম। মানসম্পন্ন ভালো মানের বই, যার অধিক চাহিদা আছে— সেগুলো কেনা হয় না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্কুল-কলেজের পাঠাগারগুলোতে পাঠক বাড়াতে উৎসাহমূলক বইপড়া কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে। তরুণ ও যুবকদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বাড়াতে ছাত্রসংগঠনগুলো কর্মসূচি হাতে নিতে পারে। এটি তাদের মধ্যে মাদক ও গ্যাং সংস্কৃতি বন্ধ করতে সহায়ক হবে। তেমনি তাদের সুন্দর জীবন গড়তেও ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি জ্ঞানগত দিকে এগিয়ে থাকতে হলে বই পাঠ করতে হবে। এজন্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। বইমেলা হতে পারে সেই উদ্যোগের অংশ। ফেব্রুয়ারির বইমেলাকে আনুকূল্য দিয়ে বইপাঠের উৎসাহকে ছড়িয়ে দিতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজগঠনে এভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।


